গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৯ নভেম্বর, ২০১২

ভিনগ্রহের ললনা & বদমাইশ রোবট (সায়েন্স ফিকশন)


৩০১২ সাল । ঘুম থেকে উঠে আমাদের এখন পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাতে হয় না । উল্টো পত্রিকাই নিজ কণ্ঠে জানিয়ে যায় সকল খবর । খবর পাঠ করা হয় একেক জনের চাহিদা অনুযায়ী । আমার পছন্দের বেশীরভাগ খবর গুলোই একটু ‘ইয়ে’ টাইপের । যেমন আজকে আমার জন্য পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিল ‘চাদপুরে তিনশ বাহাত্তর বছর বয়সী রোবট দ্বারা একুশ বছর বয়সী তরুণী ধর্ষিত।' কাহিনীর রগরগে বর্ণনা দেওয়া হল। আমি ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে শুনলাম । সব শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম ‘নাহ রোবটগুলো ইদানিং বেশী বাড়াবাড়ি করছে ।

পত্রিকার পাঠ চুকিয়ে ফেসবুকে একবার ঢু মারা আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস । মার্ক জুকারবারগের ‘ফেসবুক’ এখনো বহাল তবিয়তে টিকে আছে আমাদের মাঝে । পৃথিবীর গন্ডি পেরিয়ে ফেসবুক এখন ঝড় তুলেছে দূর ভিনগ্রহবাসীদের মাঝেও । এখনকার ফেসবুক অবশ্য আগেরমত নেই । ফেসবুক দিয়ে এখন 'অনেক কিছু' করা যায় । সে কারনে জন্মহার নিয়ন্ত্রনের জন্য বড় বড় বিলবোর্ডে লেখা থাকে ‘ফেসবুক কম ব্যবহার করুন’-প্রচারে বাংলাদেশ সরকার । ছেলে-মেয়েদের চোখে চোখে রাখতেই আজকাল অভিভাবকদের নাভিশ্বাস ।

এক সকালে ফেসবুকে ঢু মারতেই দেখি ‘ডেল্টা-7’ গ্রহ থেকে কুৎসিত প্রোফাইল পিকচারওয়ালা একটা ভিনগ্রহবাসী আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে । নাম ‘কিক্রি’ । অদ্ভুত এবং জঘন্য নাম । প্রোফাইল পিকচার দেখে এখনো বুঝা যাচ্ছেনা এই চিজ ছেলে না মেয়ে । অবশ্য, ছেলে মেয়ে বলতে আদৌ কোনকিছু তাদের সমাজে আছে আছে কিনা সে ব্যাপারে আমার জানা নেই ।

আমি কিক্রির রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করলাম । তার ইনফো থেকে জানতে পারলাম সে ‘f1’ লিঙ্গের অধিকারী । ‘f1 রেসের’ কথা শুনেছি কিন্তু f1 লিঙ্গের কথা এই প্রথম শুনলাম । গুগল মামার কাছে বিষয়টা সম্পর্কে জানতে চাইলাম । গুগল মামা আমাকে সংক্ষেপে জানালেন ‘ডেল্টা-7’ গ্রহের বাসিন্দারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন । ছেলেদের জন কোড m আর মেয়েদের জন্য f । যে সকল মেয়েরা এখনো কুমারি, এখনো বিয়ে হয়নি তাদের কোড f1 , যাদের বিয়ে হয়ে গেছে তারা f2 । f3 মানে যাদের বিয়ে হয়নি কিন্তু... থাক ঐ বিষয়গুলো এখন না জানলেও চলবে ।

পৃথিবীর নারীরা আমাকে ভুলেও কখনো ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়নি । এই গ্রহের নিষ্ঠুর মেয়েরা চিনতে না পারলেও দূর গ্রহের মেয়ে পেরেছে । তাই হটাত করেই কিক্রির নাম আর প্রোফাইল পিকচার আমার কাছে ভয়ংকর সুন্দর মনে হলো।

২.

পৃথিবীর সার্বজনীন ভাষা যেমন ‘ইংরেজি’ তেমনি মহাবিশ্বের সার্বজনীন ভাষা হচ্ছে ‘কিংরেজি’ । এই ভাষা ব্যবহার করে মহাবিশ্বের যে কোন গ্রহের প্রাণীদের সাথে ভাব বিনিময় করা যায় । কিংরেজি ভাষায় চ্যাট করতে করতে দুএক দিনের ভেতরেই কিক্রির সাথে আমার ভাব জমে গেল ।

চ্যাটবক্সে কিক্রিকে পটাবার জন্য আমি সেই চিরায়ত পদ্ধতি ব্যবহার করলাম । পাঠকদের সুবিধার জন্য চ্যাটবক্সের সেই গোপন কথা গুলো হুবুহু তুলে দিলাম ।

আমিঃ হ্যালো কিক্রি , কেমন আছো ।
কিক্রিঃ :P আমি ভাল :) , আপনি ? :D
আমিঃ : :) খুব ভাল , তোমার চুল অনেক সুন্দর ।
কিক্রিঃ LOL :P :)
আমিঃ তোমার চোখ খুব সুন্দর...
কিক্রিঃ :) LOVL (laughing out VERY loud) :D
আমিঃ তোমার ঠোঁট খুব সুন্দর ।
কিক্রিঃ :) lotml (laughing out Too much loud) এর পর আপনি কি বলবেন আমি জানি...
আমিঃ তাই নাকি ? তোমার বু (এন্টার বাটনে প্রেস পড়ে গেল)

অশ্লীল কোন ইঙ্গিত ভেবে কিক্রিও সাথে সাথে অফলাইন হয়ে গেল...

আমি সাথে সাথে কিক্রির ইনবক্সে ম্যাসেজ দিলাম- ‘তোমার বুদ্ধি ভাল’ আমি এই কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম...’

আমার স্মার্টনেসে কিক্রি খুব দ্রুত পটে গেল । বুঝতে পারলাম মনের ব্যাপারে ভিনগ্রহবাসীরা এই গ্রহের নারীদের চাইতে অনেক উদার । পৃথিবীর নারীদের এখন চাঁদ এনে দেওয়ার কথা বললেই হয়না । তারা এখন উপহার হিসেবে আস্ত চাঁদই দাবী করে বসে ।

কিক্রির প্রেমে পড়ে আমি সারাক্ষন মুচকি মুচকি হাসতাম । গুনগুন করে গান গাইতাম ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো ভিনগ্রহবাসিনী...’। আমার ঘরের কাজের রোবটটাও আমার দিকে চেয়ে মুচকি মুচকি হাসতো, এ যুগের রোবটগুলো অনেক বুদ্ধিমান । আমার নতুন প্রনয়ের ব্যাপারটা হয়তো সে খুব সহজেই ধরে ফেলেছে । তাছাড়া সেও ইদানিং আমার মতো সারাদিন ফেসবুকে বসে থাকে, হয়তো নতুন কোন প্রেমিকা খুঁজে পেয়েছে ।

কাজের মানুষ হিসেবে আমার এই রোবটটা খুবি ভাল। ঘর পরিষ্কার করা থেকে রান্নাবান্না সবক্ষেত্রেই তার জুড়ি মেলা ভার । এমন রোবট পাওয়া আজকাল ভাগ্যের ব্যাপার । দীর্ঘদিন ধরে সে একা একা বাস করছে । সিদ্ধান্ত নিলাম আমার একটা ‘গতি’ হয়ে যাওয়ার পরপরি রোবটের একটা বিয়ের ব্যবস্থা করে দেব ।

মনে মনে আমার ইচ্ছে ছিল বিয়ে না করেই যদি কিক্রির সাথে ‘একটা ব্যবস্থা’ হয়ে যায় তাহলে কি দরকার খামাকা টাকা পয়সা খরচ করার ? কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে কিক্রি এই বিষয়ে মোটেও রাজি হলনা । বুঝতে পারলাম , মেয়ে হিসেবে সে ১০০ তে ৯৯ পাওয়ার যোগ্য । শেষমেশ আমি কিক্রিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম । কিক্রি রাজী হল । আমরা নিজেরাই নিজেদের বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে ফেললাম । সিদ্ধান্ত হল বরযাত্রা নিয়ে আমি ‘ডেল্টা-7’ গ্রহে যাবো । সেখানেই ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হবে ।

বিয়ে উপলক্ষে আমি শপিঙে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম । দামী কার্ড ছাপিয়ে আত্নিয়-স্বজনদেরকে বিয়ের দাওয়াত দিতে থাকলাম । মনে মনে বিবাহ পরবর্তী সংসার জীবন নিয়ে বেশকিছু পরিকল্পনাও করে ফেললাম । যেমন, আমরা বেশি ঝগড়াঝাটি করবোনা । কারন বৌ যদি রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায় তাহলে দূর গ্রহ থেকে তার রাগ ভাঙ্গিয়ে নিয়ে আসতে যাতায়াত খরচ বাবদ আমার মোটা অংকের টাকা খরচ হয়ে যাবে । তাই কিক্রিকে সর্বদা খুশী রাখাই থাকবে আমার বিবাহিত জীবনের প্রধান লক্ষ । পৃথিবীর সকল সুখী পুরুষরাই অবশ্য এই নীতি অনুসরন করেন ।

৩.

বিয়ের তিনদিন আগে ‘কমলাপুর মহাকাশ স্টেশনে’ ২ ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে আমি ‘ডেল্টা-7’ গ্রহে যাওয়ার আন্তঃগ্রহ রকেটের টিকেট করে ফেললাম । টিকেটের জন্য আমাকে মোটা অংকের ঘুষও দিতে হল । টিকিট প্রাপ্তির খবরটা আমার হবু স্ত্রী কিক্রিকে জানাতে গিয়ে দেখি আমার সুপার কম্পিউটারটা নষ্ট হয়ে গেছে । উপায় না দেখে আমি কাজের রোবটের ল্যাপটপটা চালু করলাম । রোবটটা তখন বিশেষ কোন কাজে ঘরের বাইরে ছিল ।

সেই ল্যাপটপ দিয়ে ফেসবুকে ঢুকতেই আমার আক্কেলগুরুম । আমার হবু স্ত্রী কিক্রির একাউন্ট সেই ল্যাপটপ থেকে লগ ইন করা ! মুহুরতেই কিক্রির আসল পরিচয় আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল । কিক্রির ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট বানিয়ে ফাজিল রোবট এতদিন আমার সাথে ইয়ার্কি মেরেছে । আমার দিকে তাকিয়ে ফাজিলের মুচকি মুচকি হাসার কারণটাও ততক্ষনে আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল ।

ঘটনার আকস্মিকতায় আমি রাগে কাঁপতে লাগলাম । দিনের পর দিন ইলেকট্রিক চার্জ দিয়ে আমি এই বদমাইশটাকে পুষেছি ? মানুষের ধোঁকা সহ্য করা যায় কিন্তু মানুষের তৈরি যন্ত্রের ধোঁকা কখনও সহ্য করা যায়না ।

ফাজিল রোবটের কপাল খুবই খারাপ ছিল । আমার রাগ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে ঠিক তখনি সে ঘরে প্রবেশ করলো । আমি আর নিজেক ধরে রাখতে পারলাম না । ষ্টীলের হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলাম । শরীরের প্রতিটা অংশকে গুরা গুরা করে দিলাম । এমন অবস্থার পর রজনীকান্তের রোবটেরও কামব্যাক করা মুশকিল ।

পরদিন আমি নিজেই খবরের কাগজের শিরোনামে উঠে এলাম । একটা পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘কাজের রোবটকে নির্মম ভাবে হত্যা করলেন গৃহকর্তা ।’
আর রগরগে খবরের কাগজ গুলো শিরোনাম করলো এভাবে ‘রোবটের উপর জোর করে পাশবিকতা চালিয়ে হত্যা করল এক পাষন্ড যুবক।’

বিচিত্র এ দেশ সত্যিই সেলুকাস !!



আলাদিনের দৈত্য ফিচারিং ভালোবাসা দিবস

# ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রস+আলো তে প্রকাশিত


ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবারের ভালোবাসা দিবস পালনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কিসের কী, আমার আর ঐশীর প্রেমের বিষয়টা টের পেয়ে সব পণ্ড করে দিলেন ঐশীর বাবা বজলুর রহমান। বাংলা সিনেমার ভিলেন বাবাদের মতো তিনি গৃহবন্দী করলেন তাঁর মেয়েকে। ভালোবাসা দিবস নামের উজ্জ্বল বাল্বটি আমার চোখের সামনেই ফিউজ হয়ে গেল।
বজলুর সাহেব ঐশীর বিয়ের ব্যাপারে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন। এদিকে, প্রেয়সীকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা তো দূরে থাক, উল্টো ছিঁচকে চোরের মতো জানালার শিক ধরে আমার ঐশীর সঙ্গে দেখা করতে হতো। এভাবে প্রেম করতে গিয়ে একদিন জড়িয়ে পড়লাম আরেক ঝামেলায়। জানালার এপাশ-ওপাশের ব্যাপারটা নজরে পড়ে গেল স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা মন্টুর। বলে রাখা ভালো, মন্টু ছিল ঐশীর বাবার চোখে উঁচু দরের সুপাত্র আর আমাদের প্রেমকাহিনির অন্যতম ভিলেন!
মন্টুর প্রধান কাজ ছিল, একটা বিদেশি কুকুরসহ দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ঐশীদের বাসার আশপাশে ঘুরঘুর করা। মন্টুকে আমি ভয় পেতাম না ঠিকই, কিন্তু তার কুকুরটাকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা করতাম। সেই শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে মন্টু আঙুল উঁচিয়ে আমাকে হুমকি-ধমকি দিল। শার্টের কলার ধরে শাসিয়ে দিল, ‘আর কোনো দিন এই এলাকায় দেখলে দুটো চোখই উপড়ে ফেলে দেব।’ এত দিন শুনে এসেছি, প্রেম অন্ধ, কিন্তু কেন অন্ধ তা এই প্রথমবারের মতো টের পেলাম। এমন হুমকির পর ভালোবেসে অন্ধ হওয়ার চেয়ে ঐশীকে ভুলে যাওয়াটাই আমার কাছে শ্রেয় মনে হলো।
সবকিছু হয়তো এখানেই শেষ হয়ে যেত যদি না আগমন ঘটত আলাদিনের বিখ্যাত সেই দৈত্যের। এক দুপুরে বাসার ধুলোজমা জিনিসগুলো পরিষ্কার করার সময় পুরোনো একটা কুপি থেকে ধোঁয়া উড়িয়ে বিশাল আকারের দৈত্যটা বেরিয়ে এল। শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের মতো হাত কচলে বলল, ‘Let me introduce মালিক, আমি আলাদিন সাহেবের দৈত্য। মধ্যপ্রাচ্যের প্রচণ্ড গরমে টিকতে না পেরে এ দেশে চলে এসেছি। স্থানীয় মালিক হিসেবে এখন আপনার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করা হবে। তবে জানিয়ে রাখছি, বিশ্বমন্দার কারণে অর্থবিত্ত-সংক্রান্ত কোনো প্রকার ইচ্ছাই পূরণ করা যাবে না।’
দেরি না করে আমি আমার প্রথম ইচ্ছার কথা দৈত্যকে জানালাম, ‘ঐশীর বাবা বজলুর রহমানকে ভয় দেখিয়ে প্যারালাইজড করে ফেলতে হবে।’ ব্যক্তি হিসেবে বজলুর রহমানকে আমার মোটেও পছন্দ না। নাম যেমন ভয়াবহ, মানুষ হিসেবেও তিনি ভয়াবহ। আলিফ লায়লার ভয়ংকর সব দৈত্য চরিত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর রোল পাওয়ার কথা।
সামান্য এই ইচ্ছার কথা শুনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী দৈত্য হাসতে হাসতে অদৃশ্য হয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু মিনিট দশেক পর ফেরত এল কাঁদতে কাঁদতে! লজ্জা আর অপমানে তার মুখ লাল। দুই দৈত্যের লড়াইয়ে শেষমেশ জয় হয়েছে বজলুর রহমানের। আমি তেমন একটা আশাহত হলাম না—দৈত্যটা যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে ফিরে এসেছে এটাই অনেক বড় পাওয়া!
আমি অশ্রুসিক্ত দৈত্যকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, ‘ব্যাপার না বাডি। এ দেশের ক্রিকেট দল হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পরও এত লজ্জা পায় না। তার চেয়ে তুমি মন্টুকে একটা উপযুক্ত ধোলাই দিয়ে আসো, আমাকে অপমানের শাস্তি ব্যাটা পাক।’ চোখে-মুখে চাপা আতঙ্ক নিয়ে দৈত্যটা আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। এবার অপেক্ষা একটা সুসংবাদের।
আরও একবার চোখমুখ অন্ধকার করে দৈত্যটা ফেরত এল। এই মিশনটাও ব্যর্থ! মন্টুর গায়ে হাত দিলে নাকি ‘বাংলাদেশ দৈত্যলীগ’-এর কর্মীরা পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেবে! রাজনীতিবিদদের অসীম ক্ষমতায় আমি বিস্মিত হলাম। দুটো ব্যর্থ মিশনের পর ধমকের সুরে রাগ ঝাড়লাম, ‘তাহলে তুমি পারোটা কী?’ দৈত্যটা হেসে বলল, ‘মালিক, আপনার ইন্টারনেটের স্পিড ডাবল করে দিই?’ আমি গলায় সর্বশক্তি এনে ধমক দিলাম, ‘দূর হও চোখের সামনে থেকে।’ মন খারাপ করে দৈত্যটা বোতলের ভেতর ফিরে গেল।
সে রাতেই মাথায় একটা বুদ্ধি এল। কুপি ঘষে দৈত্যকে বের করলাম আরেকবার। জানতে চাইলাম, কুকুরের শরীরে ভর করার ক্ষমতা তার আছে কি না। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে অবশেষে সর্বশেষ ইচ্ছাটার কথা জানালাম তাকে।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল ঐশীর টেলিফোনে। তুলকালাম কাণ্ড হয়ে গেছে! উত্তেজনায় সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মন্টুর বিদেশি কুকুরটা কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তায় বজলুর রহমানকে কামড়ে দিয়েছে। কুকুরের কাজ কুকুর করলেও বদরাগী বজলুর রহমান লাঠির এক বাড়িতেই মেরে ফেলেছেন কুকুরটাকে! আর ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থলেই ছোটখাটো স্ট্রোক করেছে মন্টু।
আমি ফুল নিয়ে মন্টু ও বজলুর রহমান দুজনকেই হাসপাতালে দেখতে গেলাম, আর অপেক্ষায় রইলাম একটা উষ্ণ ভালোবাসা দিবসের...।



২৭ নভেম্বর, ২০১২

আফ্রিকার জঙ্গলে আমার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা


অনেকদিন আগে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটা ঘটনা । প্রাইভেট প্লেনে করে যাচ্ছিলাম অস্ট্রেলিয়া । বিশেষ কোন কাজ না । ইচ্ছা হল ক্যাঙ্গারুর সাথে কয়েকটা ছবি তুলে ফেসবুকে আপ করব ।

যাই হোক, আমার প্লেনের পাইলট আবার মহা গাধা প্রকৃতির । ক্লাস ফাইভ পাশ করেই সে প্লেন চালানোর লাইসেন্স পেয়ে গেছে । এখন নাকি একটু আকার ইঙ্গিত বুঝলেই লাইসেন্স পাওয়া যায় । যাই হোক গাধাটা জানেনা অস্ট্রেলিয়া যেতে হলে কোন দিকে যেতে হয় । আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশ করার পর সে আবিস্কার করল আমরা উল্টো চলে এসেছি । গাধাটাকে আমার প্লেনের পাইলট করাটাই মস্ত ভুল হয়েছে !

আমার সময় ও তেল নষ্ট করার জন্য আমি গাধাটার দিকে রাগী রাগী চোখে তাকালাম । গাধাটা ভয় পেয়ে প্লেন ঘোরাতে লাগল , কিন্তু বাঁধল বিপত্তি । ইউটারন নিতে গিয়ে প্লেনটা একটা উচু গাছের সাথে ধাক্কা খেল । অবশ্য গাছ উচুতে ছিল, না আমরা নিচে ছিলাম সেইটা একটা তদন্তের বিষয় ।:-*:-*

গাছের সাথে ধাক্কা খেলে যাই হয় , তাই হল । ডিগবাজি খেয়ে আমাদের প্লেনটা মাটিতে আছড়ে পড়তে লাগল । সাহায্যের আশায় আমি পাশে তাকিয়ে দেখি এক্সিডেন্ট টের পেয়ে গাধাটা অনেক আগেই লাফ দিয়েছে । একেই বলে বিপদে পাইলটের পরিচয় ! আমিও দেরী না করে লাফ দিলাম । সাধারনত সিনেমার নায়করা অনেক উচু থেকে লাফ দিলে তাদের কিছু হয়না । আমি সিনেমার নায়ক না হলেও দেখতে অনেক সুন্দর (!!) সম্ভবত সে কারনে খুব একটা ব্যাথা পেলাম না । (??!!) :P:P

কতক্ষন জ্ঞ্যান ছিলোনা জানিনা । জ্ঞ্যান ফিরল হিপ হপ মিউজিকের চোটে । তবে চোখ মেলে আমার ভুল ভাংলো, সেটা হিপ হপ মিউজিক না । অনেকগুলো আফ্রিকান জংলী আমাকে ঘিরে অদ্ভুত সুরে বাদ্য-বাজনা বাজাচ্ছে । তাদের মুখে রঙ করা । মাথায় পালক । পড়নে ...সবকিছু কি আমার বলে দেওয়া লাগে নাকি ? সিনেমায় দেখেন না জংলীরা কি রকম থাকে ?? X(X(


ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম এদের মধ্যে সর্দারনী টাইপের একজন মহিলাও আছেন । উনাকে দেখে অবশ্য আমার বাংলাদেশের একজনের কথা মনে হল । তবে কার কথা মনে হল সেটা আমি বলতে পারবনা । বললে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে !! ;);)

যাই হোক , আমি বুঝতে পারলাম , আমার সামনে অনেক বড় বিপদ । আফ্রিকান জংলীরা আমাকে ঘিরে ধরে আছে । আমার এখন কি করা উচিত আমি জানিনা । মেয়ে মানুষ হলে ‘বাচাও বাচাও’ বলে চিৎকার করতাম । কিন্তু পুরুষ মানুষ বলে পারছিনা । :|:|

জংলীদের একজন এসে আমার কাধে ধরে বলল ‘হুরুচ্চাতি, উলা কুবুরা মিকুচিরি হুলা’ । আমি উনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম । বাংলা মেটাল ব্যান্ডের লিরিক্সই আমি বুঝিনা আর এই ভাষা কি করে বুঝব ? অবশ্য তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এত তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। আমি সাথে থাকা ল্যাপটপটা বের করে গুগল অনুবাদে ঢুকলাম (বিঃদ্র – সেই জঙ্গল আবার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ভেতরেই ছিল) । আমি অনুবাদ দেখে ঘাবড়ে গেলাম । আফ্রিকান ভাইয়েরা আমাকে বলেছেন ‘ভ্রাতা, আমরা আপনাকে ভক্ষন করিতে ইচ্ছুক’! :-*:-*

তারা আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তুলে নিয়ে গেল । আমার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিলনা । তবে আফ্রিকান জংলী হলেও তাদের চলার পথ অনেক ভাল । আমাদের ঢাকা- ময়মনসিংহ সড়কের মত না ! :):)

রাতে আমাকে একটা গাছের সাথে বাঁধা হল । সামনে আগুন জালানো । সম্ভবত একটু পরে আমাকে পুড়িয়ে খাওয়া হবে । সারাজিবন বন্ধুদের নিয়ে বার-বি-কিউ পার্টি করেছি । প্রকৃতির নির্মম খেয়ালে আজ নিজেই বার-বি-কিউ হতে যাচ্ছি । ভাবতেই খারাপ লাগছে । অতীতে যে সকল মুরগী-ছাগল পুড়িয়ে পার্টি করেছিলাম তাদেরও নিশ্চয়ই আমার মত প্রিয়জনদের কথা খুব মনে পড়ছিল । :((:((

কিছুক্ষন পর এলেন ভুরিয়ালা এক জংলী ভদ্রলোক । আন্দাজ করলাম তিনি জংলীদের খাদ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব টাইপের কেউ । তিনি আমাকে ভাল করে দেখতে লাগলেন । আমরা যেমন কোরবানির আগে গরু দেখি ঠিক তেমনি তিনিও আমাকে আঙ্গুল দিয়ে গুতা দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নিতে লাগলেন। বুঝে নিচ্ছেন রানের মাংস কেমন হবে । সিনার হাড় গুলো কুড়কুড়ে হবে কি না এইগুলো । আমার লেজ থাকলে লেজও তুলা দিয়ে দেখতেন । তখন বুঝতে পেড়েছি কোরবানির গরুরা কেন মানুষ কে লাত্থি গুতা দিতে এত পছন্দ করে ! :P:P

জংলীদের খাদ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব

আমাকে ভাল করে পরীক্ষা করে সচিব সাহেবের চোখে মুখে গভীর হতাশার ছাপ দেখতে পেলাম । এইটুকুন মাংস দিয়ে কয়জনে খাবে ? সম্ভবত সে কারনেই আমাকে ফিটনেস সারটফিকেট দেওয়া গেলনা । B-)B-)

তবে তাদের হতাশা ধরতে পেরে আমার মাথায় আরেকটা বুদ্ধি খেলে গেল । আমি তৎক্ষণাৎ ইন্টারনেটে ঢুকে বাংলা সিনেমার কিছু নায়িকার ছবি ডাউনলড করে উনাদের দেখালাম । বললাম ‘টু মাচ মাংস , নেভার এন্ড’ ! ওহ তারা তো ইংরেজি বোঝেনা । আবারো তাদের ভাষায় অনুবাদ করে বিষয়টা জানিয়ে দিলাম । ;);)

বুদ্ধি কাজে এল । আমাকে মুক্তি দেওয়া হল । সর্দারনী বিপুল উৎসাহে আমার সাথে একটা চুক্তিপত্রে সাক্ষর করলেন । চুক্তির বিষয় হচ্ছে প্রতি মাসে দুইটা সিনেমার নায়িকা তাদের এনে দিতে হবে । আর বিয়ে শাদী পড়লে এক্সট্রা পাঠাতে হবে । আমি হাসতে হাসতে রাজি হলাম । :D:D

আমাকে রাষ্ট্রীয় অথিতির মর্যাদা দেওয়া হল । আমি স্থানীয় স্মৃতিসৌধ দেখতে গেলাম । বিরোধী দলীয় সর্দারনীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকার করলাম । মুখে গভীর হতাশার ছাপ নিয়ে বিশিষ্ট জংলী ব্যাক্তিত্তদের মাজার ফুল দিয়ে এলাম । স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলে এলাম ‘জংলী সমাজের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে । বিশেষ করে জংলী সর্দারনী আমাদের দেশের কয়েকটি ‘পন্যের’ যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ দিয়েছেন এতে উভয় সমাজই উপকৃত হবে।‘ :P:P

ভালই কাটল দু তিন দিন । অনেক ছবি-টবি তুললাম । আমার আগমন উপলক্ষে মিউজিক পার্টি দেওয়া হল । তাদের গান শুনে আমার আবার দেশের একজন গায়িকার কথা মনে হচ্ছিল ! থাক... এই নামটাও আমি বলবনা , তাকে নিয়ে অনেক মজা হয়েছে , আর না ! :P:P

পাইলট গাধাকে যত গাধা মনে করেছিলাম সে আসলে তত গাধা না । আমাকে খুজে বের করতে সে আরকেটা প্লেন নিয়ে এসেছে । আমি সব জংলী বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম । কথা দিলাম আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে খুব শিগ্রই বিপুল পরিমান সিনেমার নায়িকা আফ্রিকায় রপ্তানী করা হবে । :D:D

কিছু ছবিঃ

সর্দারনীর পরিবারের সাথে আমার ছবি

আমাকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ রাখছেন একজন অভিনেত্রী

বিরোধীদলিও নেত্রী ( আমি যাওার পর তিনি দাবি করেছেন আমার সাথে নাকি সরকারের গোপন ট্রানজিটের চুক্তি হয়েছে)

সেখানে আমি যে মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম