রসালো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রসালো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলা সিনেমা বনাম বাস্তবতা



সিনেমা
নায়িকা ভিলেন দ্বারা আক্রান্ত, সম্ভ্রম যায়-যায় অবস্থা। নায়কের আগমন, তারপর ভিলেনদের পিটিয়ে ফার্নিচার...!
বাস্তবতা
নায়িকা ভিলেন দ্বারা আক্রান্ত, সম্ভ্রম যায়-যায় দশা। নায়কের আগমন, দুটি গুলি! পরের দিনের পত্রিকার পাতায় শিরোনাম—‘দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে যুবক খুন’। 





সিনেমা
কোনো বিশেষ কারণে নায়িকার মন খারাপ। অতঃপর ঠাস করে দরজা বন্ধ করে ধপাস করে বিছানায় শুয়ে বালিশ জড়িয়ে গলা ফাটিয়ে কান্না!
বাস্তবতা
 
বিশেষ কারণে নায়িকার মন খারাপ। অতঃপর ফেসবুকে লগইন করে স্ট্যাটাস: mon khub khaৎap; manush keno emon koৎe? তারপর মিনিট ঘুরতেই ৫৭ লাইক, ২১টা কমেন্ট! নায়িকার মুখে হাসি! 


 
সিনেমা
 নায়িকার সঙ্গে নায়কের হালকা ধাক্কা। নায়িকার হাত থেকে পড়ে গেল বই। বই তুলতে গিয়ে চোখাচোখি... প্রেম...কী জাদু করেছ বলো না... (গান)!

বাস্তবতা
 
নায়িকার সঙ্গে নায়কের হালকা ধাক্কা। তারপর শুরু হলো নায়িকা ও তার বান্ধবী মহলের হাউকাউ! ইভ টিজিং ইভ টিজিং!! ইভ টিজিংয়ের অপরাধে শাস্তি। ঘরে বাপের হুংকার—ওই কুলাঙ্গার, বাইর হ আমার বাড়ি থাইকা...!

 
সিনেমা
 সিনেমায় বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে মাথায় লাঠির বাড়ি খায়। সে ক্ষেত্রে...
১ম বাড়ির পর: স্মৃতিশক্তি ফিউজ!
২য় বাড়ির পর: স্মৃতিশক্তি ফেরত আসে।
বাস্তবতা
 
বাস্তবেও আমরা বিভিন্ন কারণে মাথায় লাঠির বাড়ি খেতে পারি! সে ক্ষেত্রে—
১ম বাড়ির পর: এক্স-রে, ব্যান্ডেজ, সিটিস্ক্যান...
২য় বাড়ির পর: কর্তব্যরত চিকিৎসক কর্তৃক মৃত ঘোষিত! 



সিনেমা
 জনৈক কোটিপতি ব্যবসায়ী পড়েছেন গুন্ডাদের কবলে। তাই দেখে নায়ক ‘ইয়া আলি ঢিশুয়া’ বলে গুন্ডাদের ওপর দিলেন ঝাঁপ। গুন্ডারা খেল উচ্চপর্যায়ের পিটুনি আর পুরস্কার হিসেবে নায়ক পেলেন চাকরি।
বাস্তবতা
 
কোটিপতি পড়েছেন গুন্ডাদের কবলে। নায়কও দিলেন ঝাঁপ। পরিণামে গুন্ডা কর্তৃক ভারী প্যাদানি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, ৯৮টা সেলাই, অবশেষে ছিনতাইকারীর সহযোগী সন্দেহে গ্রেপ্তার, তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর... 


 
সিনেমা
 সারা বছর নায়কের লাফাঙ্গামি, অতঃপর রেজাল্ট। মায়ের স্নেহভরা আশীর্বাদ, বেঁচে থাকো বাবা। আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকতেন, কতই না খুশি হতেন।

বাস্তবতা

 
সারা বছর লাফাঙ্গামি, অতঃপর রেজাল্ট।
বাসায় মায়ের হুংকার—ওরে কুলাঙ্গার, আইজ খালি তোর বাপ বাঁইচা নাই, থাকলে পিডায়া তোর ঠ্যাং ভাঙত। যা, দূর হ আমার চউক্ষের সামনে থাইকা!

  
সিনেমা 
ধনী নায়িকার গাড়ির ধাক্কায় নায়ক গুরুতর আহত। নায়ককে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নায়িকার সেবা-শুশ্রূষা, নায়কের আঘাতমোচন, দুজনার প্রেম!
বাস্তবতা
নায়িকার গাড়ির ধাক্কায় নায়ক গুরুতর আহত। বিক্ষুব্ধ জনতার গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ। ফলে ঘটনাস্থলেই নায়ক নিহত। পত্রিকার শিরোনাম—‘বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মেধাবী ছাত্রের অকালমৃত্যু’। অতঃপর নায়িকার লেটেস্ট মডেলের নতুন গাড়ি ক্রয়।

 
সিনেমা 
 নায়িকার বাবা গুলি খেয়ে মৃত্যুশয্যায়। নিজের মেয়ের হাত বেকার নায়কের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিলাম, বাবা। ওকে তুমি সুখে রেখো...! আ আ আ...আহ্!
বাস্তবতা
নায়িকার বাবা মৃত্যুশয্যায়। পাশে থাকা ‘বেকার’ নায়ককে বললেন, আমার মেয়েকে তুমি নিজের বোনের মতো দেখো, বাবা। ভালো চাকরি করে এমন কোনো ছেলে পেলে বিয়ে দিয়ে দিয়ো...। আ আ আ...আহ্!

 

সিনেমা ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই। ঘটনাচক্রে ছোটবেলার ছবি দেখে দুই ভাইয়ের পুনর্মিলন। এক ভাই আরেক ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বললেন, তুই-ই আমার হারিয়ে যাওয়া ভাই রতন? আয় ভাই, আমার বুকে আয়।

বাস্তবতা

ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই। ফেসবুকে দেওয়া ছোটবেলার প্রোফাইল পিকচার দেখে এক ভাই আরেক ভাইকে কান্নার দুটো ইমোসহ মেসেজ দিলেন, তুই-ই আমার হারিয়ে যাওয়া ভাই রতন? আয় ভাই, অনলাইনে আয়...চ্যাট করি।’



সিনেমা
  ৫০০ টাকা নিয়ে নায়কের ব্যবসা শুরু অতঃপর সৎ পথে ব্যবসা করে ১০ বছর পর ৫ কোটি টাকার মালিক।
বাস্তবতা
  ৫ কোটি টাকা দিয়ে নায়কের ব্যবসা শুরু অতঃপর সৎ পথে ব্যবসা করার 'অপরাধে' ১০ বছর পর ৫০০ টাকার মালিক।



সিনেমা
  ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই খেলার সাথী (একজন ছেলে একজন মেয়ে) ...। কালের বিবর্তনে বড় হয়ে দুইজনের আরেকদফা পরিচয় এবং আরেকদফা প্রেম ।
বাস্তবতা
ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই খেলার সাথী (একজন ছেলে একজন মেয়ে) ...। কালের বিবর্তনে বড় হয়ে দুইজনের আরেকদফা পরিচয় এবং নায়িকার উক্তি ‘সরি রাজু, তুমি বড্ড দেরী করে ফেলেছো, আমি ইতিমধ্যে দুইজনকে কথা দিয়ে ফেলেছি’ 



সিনেমা(শেষ দৃশ্য)
 নায়ক ও ভিলেন পার্টির মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা, গোলাগুলি, নায়কের প্রতি গুলিতে ভিলেন পার্টির পাঁচজন করে নিহত, দ্রুত পুলিশের আগমন ও অবশিষ্ট ভিলেন আটক।
বাস্তবতা
 
নায়ক ও ভিলেন পার্টির মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা। ভিলেন পার্টি সরকারবিরোধী দলের হলে পুলিশের ধীরেসুস্থে আগমন ও সব ভিলেন গ্রেপ্তার। তবে ভিলেন পার্টি সরকারদলীয় হলে পুলিশের দ্রুত আগমন ও নায়ককে গ্রেপ্তার!




৩০ নভেম্বর, ২০১২

এ যুগের মীনা কার্টুন


পর্ব: ভাইয়ের মতো ভাই
রাতের খাবার খেতে বসেছে মীনা, রাজু আর তাদের পরিবার। আজকের খাবারের মেন্যু হচ্ছে সবুজ শাক-সবজি, ডিম, ডাল আর গরুর মাংস ভুনা। মীনা-রাজুর মা সবার পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন। তবে খাদ্য বণ্টন করতে গিয়ে তিনি সামান্য লিঙ্গবৈষম্য করে ফেললেন। রাজুর পাতে দিলেন বেশি আর মীনার পাতে কম।
মীনা (তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করে): আমারে কম দিলা ক্যান? আমি কী অপরাধ করছি?
মীনা-রাজুর মা: তুমি কী করছ মানে? ঘরে তরকারি যা-ই আসে, তার অর্ধেক তুমি চুলে আর মুখে ঘষাঘষি করো। তাই এইডা তোমার শাস্তি।
রাজু (মীনাকে উদ্দেশ করে): আ হা হা হা, তোমার কি আর ঘরে খাওনের দরকার আছে? তোমারে বাইরে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়ানের মানুষের তো অভাব নাই।
মীনা-রাজুর দাদি: রাজু ঠিক কথাই কইছে, চায়নিজ রেস্টুরেন্টে মাইয়ারা খায় আর পোলারা বিল দেয়, তাই পোলা গো ঘরে বেশি বেশি খাওন দরকার।
মীনা (চোখের জল ফেলতে ফেলতে): বাঁইচা থাইকা কী লাভ? মাইয়া হইয়া জন্মাইছি বইলা আইজ এই অবস্থা, যে পোলা ঘরের কোনো কাজ-কাম করে না, তার পাতে খাবার যায় বেশি।
রাজু (চিৎকার দিয়ে): কী কইলা তুমি? আমি ঘরের কোনো কাম করি না?
মীনা: হ, ঠিকই কইছি, সারা দিন খাসদাস আর ঘুমাস, পারলে একটা দিন আমার কাম কইরা দেখ কত কষ্ট।
রাজু: আইচ্ছা কাইল তো কলেজ বন্ধ, আসো, কাইলকা আমরা দায়িত্ব পরিবর্তন করি। তুমি সারা দিন আমার কাজ করবা আর আমি তোমার কাজ করুম।
মীনা: আইচ্ছা তাইলে সেই কথাই থাকল।
টিয়া পাখি মিঠু তখন মনোযোগ দিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছিল। মীনা-রাজুর ঝগড়াতে একটু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ওরে এত কথা বলে রে, শান্তিতে একটু খেতেও দিল না।’


পরের দিন
সময় সকাল ৮.৩০
মীনা-রাজুর মা: রাজু, ও রাজু। ঘরে আটা-ময়দা কিচ্ছু নাই, নাশতা করবি কী দিয়া? দোকানে গিয়া আটা-ময়দা নিয়া আয়। সঙ্গে চা-পাতা, চিনি, ডিম আর তেল লাগব।
রাজু (আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে): আমি পারুম না মা, আইজকে আমরা দায়িত্ব পরিবর্তন করছি। আমার কাজ মীনা করব আর মীনার কাজ আমি।
বাধ্য হয়ে মীনা ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলে কচলে দোকানে গেল। দোকানে কেনাকাটা করতে করতে বুঝতে পারল, এই কেনাকাটার ব্যাপারটা খারাপ না। বাজার থেকে সরানো টাকাগুলো মুঠোফোনে লোড করা যায়। এদিকে রাজু তখনো আরামসে ঘুমের মধ্যে। ভাবছে চুলা ধরানো, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, মুরগিরে খাওন দেওয়া—এগুলা কে করল? আরে, মাস শেষে কাজের মহিলারে কি এমনি এমনি বেতন দেওয়া হয়?



রাজুর কার্যকলাপ (সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা)
আজকে তো আবার দায়িত্ব পরিবর্তনের দিন। মীনার মতো করে রাজুকে সারা দিন কাটাতে হবে। তাই সকালে নাশতা-টাশতা শেষ করে রাজু পাশের বাসার রহিমের মায়ের সঙ্গে গল্প করতে গেল। এই সময়টাতে মীনা সাধারণত হাবিজাবি গল্প করতে প্রতিবেশীদের বাসায় গিয়ে বসে থাকে। দুপুরের দিকে বাসায় ফিরে রাজু পত্রিকার পাতা ঘেঁটে ত্বক আর চুলের যত্ন নেওয়ার টিপসগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ল। দুটো খাবারের রেসিপি খাতায় টুকে নিল। মীনা প্রায়ই এই রেসিপিগুলো খাতায় টুকে রাখে কিন্তু কোনো দিনও কিছু বানায় না।
এমনি দুপুরে খাওয়ার পর মীনা বিছানায় গড়াগড়ি খেতে খেতে তার বয়ফ্রেন্ড দিপুর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে আলাপ করে। ফালতু টাইপের আলাপ। এই যেমন ‘কী খাইলা, কী করলা? কেমনে খাইলা? কোন হাত দিয়া খাইলা?’ এই টাইপের কথাবার্তা। রাজুর তো আর গার্লফ্রেন্ড নাই, তাই সে তার বন্ধু কুদ্দুসকে ফোন দিয়ে আলাপ শুরু করল, ‘কী খাইলা, কী করলা? কেমনে খাইলা?’ কুদ্দুস বিরক্ত হয়ে বলল, ‘****** (গালি) ***** (গালি), *******(গালি)।’ এরপর তো আর প্রেমালাপ করা যায় না। তাই রাজু সুন্দর করে লাইনটা কেটে দিল।


মীনার কার্যকলাপ (সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা)
সকালে নাশতা খাওয়ার পর রাজু গলির মোড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তায় যেসব মেয়ে যাওয়া-আসা করে তাদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। মীনা তাই রাজুর মতো করে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকল। দুইটা ছেলেকে রিকশা ঠিক করে দিল। সারা দুপুর গায়ে বাতাস লাগিয়ে ফিরল দুপুরের দিকে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচের কিছু অংশ দেখল।
এরপর রাজুর মতো কোচিংয়ে যাওয়ার নাম করে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। যাওয়ার সময় বাসা থেকে বাড়তি কিছু টাকা নিয়ে গেল। সারা দিন নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করে বাসায় ফিরল সন্ধ্যার পর।

সন্ধ্যার পর
সন্ধ্যার পরে রাজু সবার জন্য চা বানাল। আর মীনা পড়তে বসল। এখন রাজুকে একটা কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। মীনার মতো করে এখন তাকে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত বসে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে হবে। রাজু দাঁত কিড়মিড় করে টিভিতে সিরিয়াল দেখতে বসল। আর মীনা পড়ার টেবিলে বসে পড়ার ভান করে মুঠোফোন দিয়ে ফেসবুকে ঢুকে চার-পাঁচটা ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল। দু-তিনজনের ছবিতে সুন্দর সুন্দর লাইক কমেন্ট দিল (রাজু ফেসবুকে মেয়েদের সঙ্গে যা করে আরকি)।

এদিকে ঘণ্টাখানেক হিন্দি সিরিয়াল দেখার পর রাজু নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারল না। এসে মীনার পায়ে ধরে বলল, আমারে তুমি মাফ কইরে দ্যাও, বইন। আইজ থাইকা আমার পাতের খাবারও তোমার... তাও তুমি আমারে এই শাস্তি দিয়ো না!

মীনা (মুচকি হেসে): দেখলা তো রাজু, আমরা সারা দিনে কত্ত কষ্ট করি। আগে আগে মাফ চাইয়া ভালোই করছ, নয়টার সময় আবার ইস পেয়ার কা ক্যায়া নাম দু দেখাবে আর আমি লাইভ টেলিকাস্ট দেখতে পারুম না ভাইবা চউক্ষে পানি চইলা আসছিল।
রাজু (চোখের পানি মুছতে মুছতে): যাও বইন যাও, গিয়া টিভি দেখো।
মীনা: এই তো ভাইয়ের মতো ভাই।
বেচারা মিঠু ভেবেছিল অন্তত একটা দিন মীনার সঙ্গে বসে তাকে সিরিয়াল দেখতে হবে না, তাই সে সুর করে করে বলল, ‘পোড়াকপাল আমার, একটা দিনও শান্তি নাই’।



২৯ নভেম্বর, ২০১২

মীনার তিনটি ইচ্ছা পূরণ


তখন রাত বাজে আটটা, লোডশেডিং চলছে। মীনা, রাজু আর টিয়া পাখি মিঠু দাদিকে ঘিরে বসেছে গল্প শোনার আশায়।
দাদি: আইজকা আমি তোমাদের একটা কিচ্ছা শুনামু। বিদেশি কিচ্ছা। আরব দেশে ছিল এক যুবক। নাম আলাউদ্দিন, তার ছিল একখান জাদুর কুপি...
মীনা: ও দাদি, এসব পুরান গল্প আর কত কইবা? আলাউদ্দিন আর দৈত্যর কিচ্ছা তো সবাই জানে। এইবার নতুন কিছু কও না?
দাদি: আরে পোলাপাইন, আমি কি আর নতুন গল্প জানি? আমার কাছে এই একটা গল্পই আছে। ওইটারই পুনঃ প্রচার হইব। শুনলে শুনো নইলে ঘুমাইতে যাও।
মিনা: বাদ দ্যাও দাদি, গল্প শোনান লাগব না। এরচেয়ে এফএম রেডিও শুনি গিয়া।
এফএম রেডিও শুনতে শুনতে মিনা ঘুমিয়ে পড়ল। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্ন দেখা শুরু করল।

মীনার স্বপ্ন
মীনা আর রাজু জাদুর পাটি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে তারা পদ্মা নদীর কাছে চলে এল। মীনা তখন তার জাদুর কুপিতে ঘষা দিল...
আলাউদ্দিনের দৈত্য: হুকুম করুন মালিক, আমি আপনাদের তিনটা ইচ্ছা পূরণ করব।
রাজু আগেভাগে বলল, আমি চাই, আমাদের এলাকায় যেন একটা গার্লস স্কুল হয়।
মীনা মুখ চেপে হেসে বলল: আরে থামো রাজু, ওই সব চাইলে হইব না, আমাগো জনগণের কথা ভাবতে হইব...আমি চাই পদ্মা নদীর ওপর যেন একটা সেতু নির্মাণ করা হয়।
মীনার এই ইচ্ছার কথা শুনে হাসতে হাসতে দৈত্যটা অদৃশ্য হয়ে গেল। দেখতে দেখতে পদ্মা নদীর ওপর একটা সেতু নির্মাণ হয়ে গেল।
আলাউদ্দিনের দৈত্যটা ফেরত এসে বলল, এবার তোমার দ্বিতীয় ইচ্ছার কথা বলো মীনা, তুমি কি সিনেমার নায়িকা হতে চাও?
মীনা: ছি. ছি. এসব কী বলো দৈত্য? আমাদের জনগণের কথা ভাবতে হইব...আমি চাই পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করা হোক।
রাজু: মীনা বু, তুমি কি ইলেকশন করবা নাকি? খালি বিরিজ বানাইতেছ?
দৈত্যটা মীনার দ্বিতীয় ইচ্ছা পূরণ করে ফেরত এল।
মীনা: আমি চাই সাম্প্রতিক সময়ের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হউক। আসামিগো খুঁইজা বাইর করা হউক।
এইবার যে দৈত্যটা গেল আর ফেরত এল না। স্বপ্নে অপেক্ষা করতে করতে সকাল হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে মীনা রাজুকে সব খুলে বলল। তারপরে বলল, স্বপ্নের এই ইচ্ছাগুলান এইবার আমি পূরণ করতে চাই।

মীনা, রাজু আর তার বন্ধুদের ‘তিনটি ইচ্ছা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক বৈঠকে
মীনা: বন্ধুরা, আমার পরথম ইচ্ছা আমরা সবাই মিইলা একটা পদ্মা সেতু বানামু।
মীনার বন্ধু: কিন্তু পদ্মা সেতু বানাইতে তো ম্যালা খরচ, ২২ হাজার কোটি টাকা। আমরা গ্রামে মানুষ তো ২২ জনই নাই। এত ট্যাকা কেমনে আসব?
সবাই বলল, ঠিক, ঠিক।
এক মিনিট চিন্তা করে মিনা বলল, আইচ্ছা বন্ধুরা, একটা কাম করলে ক্যামন হয়? আমাদের গ্রামে যে চিকন খাল আছে, অইটার ওপর যদি আমরা দুইটা বাঁশ দিয়া একটা সেতু বানাই আর খালের নাম দিই পদ্মা, তাইলে তো ওইটা একটা পদ্মা সেতু হইয়া যাইব।
সবাই বলল, ভালা বুদ্ধি, ভালা বুদ্ধি। এরপর সবাই মিলে ‘নিজস্ব অর্থায়নে’ খালের ওপর বাঁশ দিয়ে একটা সেতু বানাল। মীনার প্রথম ইচ্ছা পূরণ হলো। এবার দ্বিতীয় ইচ্ছা পূরণের পালা।
রাজু: একটা সেতু বানাইতে গিয়াই তো আমাদের সব টাকা শেষ হয়ে গেল মীনা, এখন আমরা দ্বিতীয় সেতু বানানোর টাকা কই পামু?
মীনা: সেই বুদ্ধিও আমার কাছে আছে রাজু। পাশের গ্রামে খালের ওপর যে সাঁকোটা আছে, ওইটার নাম বদলাইয়া এখন থাইকা আমরা ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ বইলা ডাকমু...
রাজু: নাম বদলানো কি ঠিক হইব?
মিনা: অতসব ভাইবো না রাজু। সরকার যদি নাম বদলাইতে পারে, তাইলে আমরা কেন পারুম না?
সবাই বলল, হ, হ, ভালা বুদ্ধি, ভালা বুদ্ধি। অতঃপর সেই সাঁকোর ওপরে তারা একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিল ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’।
মিনা: এইবার আমি আমার তৃতীয় ইচ্ছাটা পূরণ করবার চাই। যদিও স্বপ্নে আমার এই ইচ্ছাটা পূরণ হয় নাই, তয় আমরা বন্ধুরা মিইলা ঢাকা যামু তার পরে আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের আসামি গো খুঁইজা বার করমু।
কিন্তু মানুষের সব ইচ্ছা কি আর পূরণ হয়? ঢাকা এসে গোপনে এসব হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের কাছে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হলো মীনা আর রাজু। মীনা তখন বলল, ‘এইবার বুজতে পারছি রাজু, স্বপ্নে দৈত্যটা গিয়া আর ফেরত আইল না কেন...
আর বন্ধুরা বলল, খারাপ বুদ্ধি, খুবি খারাপ বুদ্ধি।



চা বানানোর ভিন্ন ভিন্ন রেসিপি


ফুটন্ত পানিতে চায়ের পাতা দিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে মানুষ গরম গরম চা পরিবেশন করে। বেশির ভাগ লোকের কাছে চা বানানোর কৌশল প্রায় এ রকম হলেও বিভিন্ন সময় শ্রেণীভেদে চা বানানোর কৌশলে ভিন্নতা দেখা যায়। সেসব রেসিপি নিয়ে এসেছেন বিশিষ্ট পাচক নাসিফ চৌধুরী


অমনোযোগী গৃহিণী
প্রথমে কেটলিতে পানি গরম করতে দিন। এবার রান্নাঘর থেকে বের হয়ে টিভিতে নাটক দেখতে বসুন। হঠাৎ যখন মনে পড়বে চা বসিয়ে এসেছেন, তখন রান্নাঘরের দিকে দৌড় দিন। এবার কেটলির দিকে তাকিয়ে দেখুন—পানি পরিমাণমতো আছে, নাকি কমে গেছে। যদি কমে যায়, তাহলে আরেকটু পানি ঢালুন। এবার চা-পাতা দিন। এরপর আবার টেলিভিশন দেখতে বসুন। কিছু সময় পর আবার দৌড়ে গিয়ে দেখুন চায়ের রঙের কী অবস্থা? যদি ভালো মনে হয়, তাহলে ছাঁকনি দিয়ে ছাঁকুন। পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে গরম গরম চা পরিবেশন করুন।

প্রথম প্রথম চা বানাচ্ছেন এমন কেউ
চা বানাতে হলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে কেটলি রান্নাঘরের কোথায় থাকে। এ ব্যাপারে আপনার বউয়ের সাহায্য নিতে পারেন। আর ঝগড়ার কারণে যদি বউয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ থাকে, তাহলে নিজেই খুঁজে নিন। খুঁজে পেলে তাতে পানি গরম করতে দিন। এবার চা-পাতা কোথায় থাকে, সেটা খুঁজে বের করুন। খুঁজতে খুঁজতে যদি মেজাজ বেশি খারাপ হয়ে যায়, তাহলে ফ্যানের নিচে বসে মাথা একটু ঠান্ডা করে নিন। চা-পাতা খুঁজে পেলে পানিতে ঢালুন। এরপর পানির দিকে তাকিয়ে দেখুন পানির রং কেমন হলো। মনমতো রং হওয়ামাত্র ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে ঢালুন। তাতে পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে নিন। এবার চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ‘ওয়াক থু’ বলে ফেলে দিন। রাগ করে প্রথম প্রথম চা বানালে এমনই হয়!

পরিবারের আদুরে কন্যা
প্রথমে আম্মুকে বলে নিন, ‘মম, আজকে কিন্তু আমি চা বানাব!’ মায়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসামাত্র আম্মুকে বলুন কেটলিটা এনে দিতে। এবার কেটলি চুলায় দিয়ে আম্মুর কাছ থেকে জেনে নিন কতটুকু পানি দিতে হবে, পানি গরম হয়ে গেলে আবার আম্মুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, চা-পাতা কতটুকু লাগবে। এই ফাঁকে একবার বলে নিন, ‘উফ, চা বানানো এত কষ্ট, আমার মাথাব্যথা করছে!’ পানি গরম হলে মাকে বলে ছাঁকনি খুঁজে নিন। আম্মুকে বলুন কেটলি থেকে গরম পানি কাপে ঢেলে দিতে। কারণ, ঢালার সময় গরম পানি হাতে লাগলে চিৎকারের চোটে প্রতিবেশীদের সমস্যা হতে পারে। পানি ঢালা শেষ হলে আম্মুকে বলুন কাপে দুধ-চিনি মিশিয়ে দিতে। এরপর সেই চা অন্যকে দিন এবং বলুন, ‘এই চা আমি বানিয়েছি’!

ব্যাচেলর
প্রথমে খুঁজে দেখুন ঘরে কোনো কেটলি আছে কি না। যদি থাকে, তাহলে দেখুন পানি আছে কি না। যদি পানি থাকে, তাহলে কেটলিতে পানি ঢালুন। এর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, বকেয়া বিলের অভিযোগে গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে কি না। যদি লাইন ঠিকঠাক থাকে, তাহলে পানি গরম করতে থাকুন। চা-পাতা দিতে গিয়ে দেখবেন ঘরে চা-পাতা নেই। তখন দোকানে গিয়ে চা-পাতা নিয়ে আসুন। পানিতে চা-পাতা ঢালুন। যখন ছাঁকনি খুঁজেই পাবেন না, তখন ছাঁকনি ছাড়াই চা কাপে ঢালুন। এবার দুধ-চিনি মেশানোর পালা। কী আশ্চর্য! একবারও মনে পড়েনি ঘরে দুধ-চিনি নেই! আবার দোকানে যান, দুধ-চিনি নিয়ে আসুন। বাসায় ফিরে এই ব্যাচেলর জীবনের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে চায়ে দুধ-চিনি মিশিয়ে নিন। চামচ খুঁজে পাচ্ছেন না? এক কাজ করুন, আঙুল দিয়ে নাড়ুন। এই চা তো আপনিই খাবেন, ঠিক না?

কাজের বুয়া
চা বানানোর কথা শোনামাত্র চোখেমুখে যথাসম্ভব বিরক্তির ছাপ নিয়ে আসুন। এবার কেটলিতে ইচ্ছামতো পানি দিয়ে তাতে যত খুশি চা-পাতা দিয়ে দিন। চায়ের রং গাঢ় কিংবা হালকা যা-ই হোক, ঠিক দেড় মিনিট পর তা কাপে ঢালুন। এবার চামচ দিয়ে যতটুকু দুধ-চিনি ওঠানো যায়, ততটুক কাপে দিয়ে একটা ঘোঁটা দিন। এবার যে চা পান করবে, তার সামনে ধপ করে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখুন।

বাড়ির কর্তা
বাসার কাউকে ডেকে বলুন এক কাপ চা দিতে। এর পাঁচ মিনিট পর গরম গরম চা পরিবেশন করুন।

বাড়ির কর্ত্রী
স্বামী অফিস থেকে ফিরে এলে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলুন। হাত যেন ভালোভাবে পরিষ্কার হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিন। চা বানিয়ে আনলে চোখ বন্ধ করে এক চুমুক মুখে নিন। পুরোটুকু না গিলেই কাপের চা স্বামীকে এক চুমুকে পান করার আদেশ দিন।



একটি রাজনৈতিক টেস্ট ম্যাচ


অংশগ্রহণে
জাতীয়তাবাদী ক্রিকেট দল
আওয়ামী ক্রিকেট দল

ম্যাচের দল ঘোষণা
ম্যাচের আগের রাতে দফায় দফায় বৈঠক শেষে গভীর রাতে দলীয় কার্যালয়ে দল ঘোষণা। সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়দের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও যানবাহন ভাঙচুর।

ম্যাচ শুরু—টস
টসে আওয়ামী ক্রিকেট দলের জয়লাভ ও ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। টসে পক্ষপাতিত্ব হয়েছে দাবি করে জাতীয়তাবাদী ক্রিকেট দলের টস বয়কট ঘোষণা। ড্রেসিংরুমে বিক্ষোভ সমাবেশ।

প্রথম দিন
টস-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে খেলা শুরু হতে বিলম্ব। অবশেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সমঝোতায় লাঞ্চের পর খেলা শুরু। জাতীয়তাবাদী দলের বোলিংয়ের তোপে ২০ ওভারে আওয়ামী দলের টপ অর্ডারের চারজন ব্যাটসম্যান আউট। পঞ্চম উইকেট জুটিতে হঠাৎ এক বাউন্সারের আঘাতে আওয়ামী ব্যাটসম্যান আহত। ঘটনার জের ধরে বোলারদের সঙ্গে ব্যাটসম্যানের হালকা বাগিবতণ্ডা। বাউন্সার দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কর্তৃক জাতীয়তাবাদী দলের বোলার গ্রেপ্তার। প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম দিনের খেলা বর্জন। সন্ধ্যায় পল্টনে বিক্ষোভ মিছিল, মতিঝিলে বাসে আগুন। অন্যদিকে, বাউন্সার দেওয়ায় আওয়ামী সমর্থকদের প্রতিবাদী মিছিল এবং রাতে প্রতিপক্ষ দলের ওপর হামলা।



দ্বিতীয় দিন
আটক বোলারের মুক্তির দাবিতে দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে পিচের ওপর জাতীয়তাবাদী দলের অস্ত্রসহ অবস্থান ধর্মঘট। ধর্মঘটের একপর্যায়ে বোলারের মুক্তির আশ্বাস পেয়ে খেলা শুরু। দিন শুরুর দ্বিতীয় ওভারেই আওয়ামী দলের ক্যাপ্টেন এলবিডব্লিউর শিকার। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল দাবি করে ঘটনাস্থলে আম্পায়ারকে ব্যাট দিয়ে ধোলাই। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্টেডিয়ামে আওয়ামী সমর্থক ও খেলোয়াড়দের ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। দিনের খেলা স্থগিত রেখে আউটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আপিল। ‘আওয়ামী ক্যাপ্টেনের আউট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’ জানতে চেয়ে থার্ড আম্পায়ারের আদেশ জারি।
মাঠে আম্পায়ারের ওপর হামলা এবং স্টেডিয়াম এলাকায় ভাঙচুরের প্রতিবাদ হিসেবে পরদিন দেশব্যাপী জাতীয়তাবাদী দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, নিহত ২। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ১৮১।


তৃতীয় দিন
হরতালের কারণে মাঠ খেলোয়াড়শূন্য। উল্টো পিকেটিংয়ের অপরাধে কাকরাইল থেকে জাতীয়তাবাদী দলের তিন ব্যাটসম্যান আটক এবং পুলিশের লাঠির আঘাতে উইকেটকিপার আহত। গভীর রাতে ব্যাটসম্যানদের মুক্তি।
অন্যদিকে, হরতালের বিরুদ্ধে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর অস্ত্রসহ শান্তিপূর্ণ (?) বিক্ষোভ মিছিল। আওয়ামী খেলোয়াড়দের আপিলের বিরুদ্ধে থার্ড আম্পায়ারের রায়, ‘আওয়ামী ক্যাপ্টেনের আউট বৈধ।’ রায় মেনে নিতে না পেরে থার্ড আম্পায়ারের এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর।



চতুর্থ দিন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আবার খেলা শুরু। আওয়ামী দল ১৮০ রানে অলআউট। জাতীয়তাবাদী দলের ব্যাটিং শুরু। দলীয় ১০ রানের মাথায় জাতীয়তাবাদী দলের বিরুদ্ধে একটি রানআউটের সিদ্ধান্ত। আম্পায়ার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন দাবি করে জাতীয়তাবাদী দল কর্তৃক মাঠে আম্পায়ারের কুশপুত্তলিকা দাহ। মাঠ থেকে ওয়াকআউট করে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা, ‘এই আম্পায়ারের অধীনে জাতীয়তাবাদী দল কোনো টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে না।’ নিরপেক্ষ আম্পায়ার পাওয়া না গেলে বাকি ম্যাচ রাজপথে খেলার ঘোষণা।
আওয়ামী দলের দাবি, ‘নিশ্চিত পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হবে জেনে জাতীয়তাবাদী দল এখন ম্যাচ বয়কটের পাঁয়তারা করছে।’ তাদের রাজপথে দেখে নেওয়ার ঘোষণা।


পঞ্চম দিন
নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ইস্যুতে পল্টনে দুই দল মুখোমুখি। পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েক শ রাউন্ড গোলাগুলি, বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ। সহিংসতায় দেশব্যাপী নিহত ৩, আহত শতাধিক। মাঠে উভয় দলের উপস্থিতি না থাকায় পঞ্চম দিনের খেলা পরিত্যক্ত করে ম্যাচ ড্র ঘোষণা।


ম্যাচ শেষে
জাতীয়তাবাদী দল
আওয়ামী ক্রিকেট দল কখনোই শান্তিপূর্ণ ক্রিকেট চায় না। ম্যাচের ফল ড্র হলেও প্রকৃতপক্ষে বিজয় জাতীয়তাবাদী শক্তিরই হয়েছে।

আওয়ামী দল
দেশজুড়ে অরাজকতা চালিয়ে ম্যাচের ফল পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ফল বরাবরের মতো আমাদের পক্ষে রয়েছে।



পদ্মা নদীর বোটম্যান ২০২১ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ অবলম্বনে)


আংশিক পরিবর্তিত হয়ে রস+আলোতে প্রকাশিত ।

সময়কালঃ ২০২১ ।
স্থানঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ ।


০১. মাঝি কুবের ও তাহার পরিবার ।`

পদ্মাপাড়ের এক অজপাড়াগ্রাম কেতুপুর । সেই গ্রামের মাঝি সমিতির নির্বাচিত যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক কুবের। কুবের গরিবের মধ্যে গরীব আর ছোটলেকের মধ্যে ছোটলোক । ক্রেডিট কার্ড , ডেবিট কার্ড তো দুরের কথা একখানা ভিজিটিং কার্ডও তাহার নাই।

পুত্র লখা, কন্যা গোপী আর স্ত্রী মালাকে লইয়া কুবেরের পরিবার । হিন্দি সিরিয়াল ভক্ত মালা সর্বদা মনের মাধুরি মিশাইয়া কুবেরের সাথে ঝগড়া করিবার চেষ্টা করিতে থাকিল। তাই ঘরের অশান্তিতে কুবের পিক আওয়ার অফ পিক আওয়ার সর্বদা পদ্মার বুকে মাছ ধরিতে ব্যাস্ত থাকিত।

০২. পদ্মার ইলিশঃ

সারদিন জাল টানিয়া নদীতে দুই-তিন খানা ছোট মাছের বেশি কিছু পাওয়া যায়না । ইলিশ মাছ পাওয়া তো ভাগ্যের বিষয় ! সমস্ত পদ্মায় বছরে দুএকটা ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তাই বর্তমানে বড় সাইজের একখানা ইলিশ মাছ বেচিয়া ঢাকা শহরে অভিজাত ফ্ল্যাট কিনিয়া লওয়া সম্ভব । গতবৎসর একসাথে দুইখানা ইলিশ মাছ ধরিয়া গনেশ মাঝি সপরিবারে আমেরিকা চলিয়া গিয়াছে।
তিন চার বছর পূর্বে এক খানা ছোট সাইজের ইলিশ মাছ পাইয়া কুবের তাহা বিক্রয় করিবার জন্য সেলবাজারে দিয়াছিলো। সেই দিন তাহাকে প্রায় লক্ষাধিক কল রিসিভ করতে হইয়াছিল। উহা বিক্রয় করিয়া সেই টাকা কুবের ইউনিপেথ্রিইউতে বিনিয়োগ করিয়াছিলো । তাহার পোড়া কপাল , কোম্পানি সব লইয়া চম্পট দিয়াছে ।

ডিজিটাল বাংলাদেশে পদ্মার ইলিশ খাওয়ার সৌভাগ্য শুধুমাত্র রাস্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর মাঝে মাঝে হইয়া থাকে। নববর্ষের দিন মানুষ পদ্মার পানি জ্বাল দিয়া পান্তা ভাতের সাথে খাইয়া থাকে । ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের কেউ রাষ্ট্রীয় সফরে এলে উপহার হিসেবে তাদের প্লাস্টিকের দুইখানা ইলিশ মাছ দেওয়া হয়।


০৩। কপিলার আগমনঃ

একবিকালে দুইখানা পুটিমাছ ধরিয়া কুবের ক্লান্ত হইয়া নদীর ধারে বসিয়া ল্যাপটপে এক কুয়েতি এক বোরকাওয়ালীর সাথে ফেসবুকে চ্যাট করিতেছিলো । কুয়েতি তাহাকে ভিডিও চ্যাটের আমন্ত্রন জানাইলেও মাছ ধরিয়া তাহার চুল অগোছালো ছিল বিধায় সে তাতে রাজী হইলো না। এমন সময় স্ক্রিনে ‘কপিলার’ স্ট্যাটাস ভাসিয়া উঠিল । কপিলা মালার ছোটবোন , সম্পর্কে কেবেরের শ্যালিকা।
Kopila shundhori লিখিয়াছে ‘too much flood in my village , lol , omg , too much water … lol … don’t know swimming ..omg … lol …lol.lol , pray for us …  :P .
কুবের কমেন্ট দিলো ‘ tumi koi ? @kopila ।
কপিলা উত্তরে লিখিল ‘ I am in my father house , lol @ dulavai.
কুবের আবার লিখিল ‘I m coming … wait for me @ kopila.’ কপিলা সেই কমেন্টে লাইক মারিল।

কপিলাকে উদ্ধার করিতে কুবের দ্রুত শ্বশুরবাড়ি ছুটিয়া গেলো । যেন কপিলা ডুবন্ত লঞ্চ আর কুবের ‘উদ্ধারকারী জাহাজ হামযা’।

স্বামী ফেরত কপিলাকে তাহার বোনের বাড়ি পাঠাইতে কপিলার বাবা মায়ের মোটেও আপত্তি ছিলোনা । কারন এমন যুবতী নারীকে খোলা স্থানে রাখা মোটেও নিরাপদ নহে । শত শত পরিমল লোভী দৃষ্টিতে চারিদিকে ঘুরাঘুরি করিতেছে।
কপিলার নতুন স্থান হইলো কুবেরের সংসারে । কপিলা আসিয়াই সংসারের সকল দায়িত্ব গ্রহন করিল । মালার কাজ হইলো শুধু রাষ্ট্রপতির ন্যায় শুধু খাওয়া দাওয়া আর ঘুম।

০৪. কুবের ও কপিলার রোমান্সঃ

মালার সাথে বিবাহ হওয়ার পর হইতেই কপিলার প্রতি কুবেরর দুর্নিবার আকর্ষণ। কপিলা ফেসবুকে কোন ছবি পোস্ট করিলে কুবের কোপাইয়া কমেন্ট করিত ‘how cute’…’so sweet’….’khub shundor’…..’tomake angeler moto lagche’ ।

অবশ্য কুবেরের বিবাহের সময় কপিলা নিতান্তই কিশোরী ছিল। তখনকার প্রস্ফুটিত পুস্প আজ সুবাসিত ফুলে পরিনিত হইয়াছে । সেই ফুলের কড়া সুবাস প্রতিনিয়ত কুবেরের নাকে আসিয়া লাগিতেছে ।

নারী জাতি ছলনাময়ি আর কপিলাতো ছলনাময়ীদের জীবন্ত কিংবদন্তী। কুবের মাঝির মনে ঢেউ তুলিতে সে সদাব্যস্ত রহিল । গৃহে মালার সামনে কপিলা নিতান্ত ভদ্রতা বজায় রাখিলেও তামাক দেওয়ার নাম করিয়া কুবেরের পিছু পিছু আসিয়া কপিলা বিভিন্ন প্রকার রঙ তামাশা করিবার চেষ্টা করিত । পাছে লোকে দেখিয়া ফেলে ভাবিয়া কুবের ধমক মারিয়া বলিত ‘বজ্জাতি করছোস যদি, নদীতে চুবান দিমু কপিলা, তুই কি আমারে ‘ইমরান হাশমি’ পাইছস ? কপিলা ‘আরে পুরুষ’ বলিয়া মুখ ঝামটা দিয়া চলিয়া আসিত।

রাতে মাছ ধরিতে ধরিতে কুবের কপিলার সাথে সারা রাত চ্যাট করিতো । চ্যাট করিতে করিতে কপিলা প্রায়ই কুবেরের প্রতি অশ্লীল ইঙ্গিত করিয়া বসিতো, আর উত্তরে কুবের একখানা হসির ইমো দিতো । কপিলা তৎক্ষণাৎ লিখিত ‘’ হাসলা যে মাঝি?’ কুবের কোন উত্তর দিতো না ।

কুবেরের মোবাইলের ওয়ালপেপারে মালার ছবি বদলিয়া দ্রুত কপিলার ছবি স্থান করিয়া নিলো।


০৫. গোপীর অসুস্থতা ও হোটেলে রাত্রি যাপনঃ

ভেজাল খাবারের প্রভাবে কুবের-কন্যা গোপীর হঠাৎ একদিন গ্যাস্ট্রিকের তীব্র প্রদাহ শুরু হইলো । প্রদাহ তীব্র হইতে থাকিলে কুবের গোপীকে ঢাকা লইয়া যাইবার ব্যবস্থা করিল । মালার অক্ষমতার কারণে কুবেরের সঙ্গী হইলো কপিলা । আরেকজন তাহাদের সঙ্গী হইলো, তাহার নাম ‘রাশু’ ।
সম্পর্কে সে গোপীর বয়ফ্রেন্ড । গার্লফ্রন্ডের এমন বিপদে সে কি পাশে থাকিবে না ? গোপী রাশুর সম্পর্ক কুবের টের পাইলেও কিছু বলিতো না । যত যাই হোক পাত্র হিসাবে রাশু হাজারে এক ।

ঢাকার ডাক্তার গোপীকে দেখিয়া উদাস হইয়া বলিলেন ‘রোগীর অবস্থা তো আশংকাজনক’। এখনি তাকে I.C.U তে ভর্তি করিতে হইবে । ইহা শুনিয়া রাশু ‘ইয়ে কেসি কাসুটি জিন্দেগি কি’ বলিয়া মাটিতে লুটিয়া পড়িল ।

ডাক্তারের পরামর্শে তাহার নিজস্ব ক্লিনিকের i.c.u তে গোপীকে ভর্তি করিয়া কুবের,কপিলা ও রাশু ওয়ান স্টার মার্কা এক হোটেলের দুই রুম ভাড়া করিল । কুবের-কপিলা এক রুমে ও রাশু অন্য রুমে থাকিবার ব্যাবস্থা হইলো । ঘুমানোর পূর্বে রাশু আসিয়া তাহার ল্যাপটপ খানা রাখিবার নাম করিয়া কুবের-কপিলার রুমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রাখিয়া গেলো ।

সেইরাত্রে কপিলার মায়াবি আমন্ত্রনে কুবের মুহূর্তেই ইমরান হাশমীর রুপ ধারন করিল । আংরা হয়ে জ্বলিতে থাকা আগুন খোলা বারুদের সংস্পর্শে আসিয়া তীব্র ভাবে জ্বলিয়া উঠিল । বাকি সব ঘটনা নীরবে ঘটিয়া গেলো ... কেহ কিছু টের পাইলোনা।

পরদিন বিকালে গোপীকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করিল । দুইখানা এন্টাসিড ট্যাবলেট খাওয়াইয়া ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাখখানেক টাকার বিল আবদার করিলো । বিল দেখিয়া কুবের পাঁচ মিনিটের ভেতর সাতবার অজ্ঞ্যান হইয়া গেলো । অগ্যতা কপিলা তাহার স্বর্ণালঙ্কার জমা রাখিয়া কুবেরকে সেই যাত্রায় রক্ষা করিল।
রোগী সুস্থ হওয়া সত্বেও গোটা পরিবার সেইবার কাঁদিতে কাঁদিতে ক্লিনিক হইতে প্রস্থান করিয়া গ্রামে ফিরিয়া আসিল ।

দু এক সপ্তাহের ভেতরেই কপিলার স্বামী আসিয়া কপিলার মান ভাঙ্গাইয়া লইয়া গেলো । শুরু হইলো কুবেরের বিরহের দিন।


০৬. হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপ আবাসন প্রকল্পঃ

একদিন কেতুপুরে আসিয়া হাজির হইলো কোট-টাই পরা এক ব্যাক্তি । নাম তাহার হোসেন মিয়া। ‘ময়নাদ্বীপ আবাসন প্রকল্প’ নামক এক প্রকল্পের মালিক সে। তাহার আগমনের উদ্দেশ্য কেতুপুরের বাসিন্দাদেরকে সে কম মুল্যে প্লট কিনিয়া দিবে। এই উদ্যশ্যে হোসেন মিয়া তাহার প্রকল্পের বাহারি বিজ্ঞাপন চালাইতে লাগিল। যেমনঃ ** ‘রাজউক অনুমোদিত ঢাকার সেরা আবাসন প্রকল্প - ‘ময়নাদ্বীপ আবাসন প্রকল্প’। মতিঝিল হইতে বিমানপথে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে পদ্মার চরে গড়ে উঠছে ঢাকার সর্বাধুনিক আবাসন প্রকল্প । ময়নাদ্বিপে থাকা মানে ঢাকা সিটিতেই থাকা।' **
হোসেন মিয়া প্লট বেচিতে পারিল না ঠিকই তবে কেতুপুরে চেম্বার অফ কমার্স নির্বাচন করিয়া বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হইলো। বিভিন্ন বিপদে এখন লোকে তাহার কাছে পরামর্শ করিতে আসে।

০৭। রাসুর প্যাচটিনি–২০০০ লিমিটেডঃ

হটাৎ করিয়া রাসুর মাধ্যমে কেতুপুরে প্যাচটিনি-২০০০ লিমিটেডের আগমন ঘটিলো । রাসু তাহার ল্যাপটপের মাধ্যমে সবাইকে দেখাইয়া দিল প্যাচটিনিতে ঢুকিয়া প্যাচ খেলাইয়া কি ভাবে অল্পদিনে প্রতি সপ্তাহে ১২৫০০ টাকা আয় করা যায় । প্যাচটিনিতে ঢুকিতে বেশি ঝামেলার প্রয়োজন নাই । অল্পকিছু টাকা দিয়া কোম্পানির মাধ্যমে বারোখানা গাছ লাগাইতে হইবে । রাসুর কথা শুনিয়া মনে হইলো যে দেশের বৃক্ষের চাহিদা মেটানোর একক দায়িত্ব প্যাচটিনি–২০০০ লইয়াছে ।
প্যাচটিনিতে ঢুকিয়া কিছু গ্রামের কিছু মানুষ দ্রুত বদলাইয়া গেলো । তাহারা লুঙ্গি আর গেঞ্জি বাদ দিয়া শার্ট আর টাই লাহাইয়া প্যাচটিনির গীত গাইতে গাইতে বাকিদের অসহ্য করিয়া তুলিল । অবস্থা এমন দাঁড়াইল যে লোকে তাহাদের দেখিলে ‘পালাও পালাও’ বলিয়া দৌড়াইয়া ডানে-বামে ছুটিতো ।
রাসুর এমন ‘অধপতন’ দেখিয়া কুবের মারাত্নক নাখোশ হইলো । মানুষকে ডুবাইবার এমন পেশা সে ক্যামনে বাছিয়া লইলো ?
কুবের সিদ্ধান্ত লইলো গোপীকে অন্যত্র বিবাহ দিয়া দিবে । রাসুর নিকট সে কিছুতেই গোপীকে তুলিয়া দিবে না । যে ছেলেকে সবাই আড়ালে গালি দেয়, তাহার সাথে কন্যা বিবাহ দেওয়া অসম্ভব।

নেটে অনেক খুজাখুজি করিয়া কুবের গোপীর জন্য একখানা পাত্র নির্বাচন করিয়া গোপীর সাথে তাহার বিবাহ ঠিক করিল। খবর পাইয়া রাসু বাংলা সিনেমার নায়কদের মতো আসিয়া বলিল ‘চৌধুরী সাহেব , আমরা প্যাচটিনি করতে পারি, কিন্তু ছোটলোক নই !' অতঃপর অনেক অনুরোধ করিয়াও রাসু কুবেরের মন গলাইতে পারিল না। । কুবের বলিল ‘মেনে একবার যো কমিটমেন্ট কারদি , উস কি বাদ মে খুদ কা ভি নেহি সুন্তা ।‘
রাসু হুমকি দিয়া গেলো ‘টের পাইবা মাঝি, আমি কি চিজ !’

০৮. গোপীর বিবাহঃ

গোপীর বিবাহ উপলক্ষে কপিলা সপ্তাহ-দশ দিনের জন্য বোনের বাড়িতে আসিল। গর্ভে তাহার আগত সন্তান।
কুবেরের আশংকা ছিল গোপী বিবাহ করিতে অস্বীকৃতি জানাইবে , কিন্তু আদর্শ প্রেমিকার ন্যায় গোপী হাসিতে হাসিতে বিবাহ করিয়া ফেলিল। কুবেরের বুক হইতে যেন পাথর নামিয়া গেলো।

০৯। রাসুর প্রতিশোধঃ

বিবাহের পরদিন কুবের বসিয়া বসিয়া বিবাহ অনুষ্ঠানের সকল ছবি আপলোড করিতে ছিলো। এমন সময় রাসু তাহাকে একখানা ভিডিওতে ট্যাগ করিল। সাথে লিখিল ‘ট্যাগেই প্রকৃত সুখ’ ! ভিডিও দেখিয়া কুবেরর চক্ষু ছানাবড়া !! ঢাকার হোটেলে কুবের ও কপিলার অন্তরঙ্গ মুহুরত রাসু গোপনে ধারন করিয়া ফেসবুকে প্রকাশ করিয়া দিয়াছে। ভিডিও দেখিয়া কুবেরের হৃদকম্পন বন্ধ হইয়া গেলো , ষে তৎক্ষণাৎ ভিডিওতে কমেন্ট দিল ‘অরে লুইচ্ছার লুইচ্ছা , তোর লগে মাইয়া বিয়া না দিয়া আমি উচিত কামই করছি’। সেই ভিডিও কপিলারও হৃদকম্পন বন্ধ করিয়া দিল।



১০. অবশেষেঃ

সব শুনিয়া হোসেন মিয়া বলিলো ‘একবার যখন ভিডিও প্রকাশ হইয়াছে তখন কোন ভাবেই ইহাকে আটকাইয়া রাখা সম্ভব নহে, ‘ব্লু-টুথ মানেনা কোন বাধা !!’ মোবাইলের মাধ্যমে দ্রুত এই ভিডিও সারা দেশে ছড়াইয়া পড়িবে ।
তাই হোসেন মিয়া কুবেরকে পরামর্শ দিল কম মুল্যে ৯৯৯৯ কিস্তিতে ময়নাদ্বিপে প্লট কিনিয়া লওয়ার। নিরুপায় কুবের প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে রাজী হইয়া গেলো ।

সে রাত্রেই কুবের ময়নাদ্বিপে যাওয়ার প্রস্তুতি লহিলো । কপিলা তাহার কোন গতি না দেখিয়া কুবেরকে বলিল ‘আমারে নিবা মাঝি লগে?’
কুবের প্রথমে বলিল 'তোমারে না নিয়া উপায় আছে ? তোমার লাইগাই আইজ আমার এই দশা...' পরক্ষনেই কপিলার গর্ভের সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিল ‘কিন্তু ... তোর পেটে...’

কপিলা মুচকি হাসিয়া বলিলো ... ‘আরে মাঝি , বুঝলানা... মুরগী তোমার ডিমও তোমার !’

অবশেষে দুইজনে মিলিয়া যাত্রা করিলো ময়নাদ্বীপের উদ্দ্যশ্যে...



পরীক্ষার খাতায় রাজনৈতিক উত্তর

রস+আলো, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তে প্রকাশিত

‘ঢেঁকি’ যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, তেমনি আমাদের দেশের ‘রাজনীতিবিদেরা’ তাঁদের ঐতিহাসিক কিছু বুলি সব জায়গাতেই প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। অদূর ভবিষ্যতে পরীক্ষার খাতায়ও হয়তো ছাত্ররাজনীতি করা কেউ সব প্রশ্নের রাজনৈতিক উত্তর দিয়ে আসবেন, ঠিক এমন ঘটনার কল্পনাপ্রসূত কিছু রাজনৈতিক উত্তর লিখেছেন নাসিফ চৌধুরী

[এখানের সব প্রশ্নই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্প অবলম্বনে]

 হৈমন্তী গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

ছাত্রলীগের উত্তর:

হৈমন্তী একটি চমৎকার ছোটগল্প। রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম বিধায় গল্পটি পড়া হয়ে ওঠেনি! তবে গল্পের নামকরণ প্রসঙ্গে বলতে হয়, নামকরণটি মোটেও সার্থক হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম এখানে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। আমার ধারণা, কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দ্বারা এ গল্পটি রচিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই, এ গল্পের নাম অনতিবিলম্বে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন’ করা হোক। এ গল্পের শুরুতেই মহাজোট সরকারের বিগত দিনগুলোর উন্নয়নের ইশতেহার তুলে ধরা হোক।

ছাত্রদলের উত্তর:

হৈমন্তী একটি চমৎকার উপন্যাস! তবে ‘হৈমন্তী’ নামটি আমার কাছে অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলক বলে মনে হয়েছে। বিরোধী দলকে চক্রান্তমূলকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে।
লোকমুখে শুনেছি, এ গল্পে হৈমন্তীকে প্রচণ্ড নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। এ সরকার অন্যায়ভাবে আমাদের নেত্রীর ওপর নির্যাতন করেছে, তাঁকে বাড়িছাড়া করেছে। তাই এ উপন্যাসের নাম ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ করা হোক।


 হৈমন্তীর মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?

ছাত্রলীগের উত্তর:

প্রথমেই আমি হৈমন্তীর মৃত্যুতে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। হৈমন্তীর মৃত্যু জাতি সহজভাবে মেনে নিতে পারবে না। হৈমন্তী ছিল সব সময় সত্য ও নিষ্ঠার পক্ষপাতী। অন্যায়ের প্রতিবাদী। ঠিক আমাদের নেত্রীর মতো। তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং একই সঙ্গে হৈমন্তীর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানাই। প্রয়োজনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে শাস্তি দেওয়া হোক।

ছাত্রদলের উত্তর:

এই সরকারের দুঃশাসনে জনগণ আজ অতিষ্ঠ। তাদের অত্যাচারে মানুষ পালানোর পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এই শাসনের কারণেই আজ হৈমন্তীকে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারের কাছে জবাব চাই। কিছু ছাত্রলীগ নেতার যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই সরকারের অপশাসন আর বেশি দিন জারি থাকলে খুব শিগগির দেশের প্রতিটি মানুষকে হৈমন্তীর মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। তাই আমি সরকারের কাছে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানালাম।


হৈমন্তী গল্প অবলম্বনে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার রূপ তুলে ধরো।

ছাত্রলীগের উত্তর:

হৈমন্তী গল্পে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। বিগত জোট সরকারের আমলেও দেশে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এ দেশের জনগণ তা কোনো দিনও ভুলবে না। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে তারা এই পাঁচ বছরে দেশকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করেছিল। হৈমন্তীর মতো তারা আমাদের নেত্রীকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। অল্পের জন্য তিনি গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা পান। দেশজুড়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে দেশ আজ সেই অপশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। এ জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।


ছাত্রদলের উত্তর:

আরে ভাই, রাখেন তৎকালীন সমাজব্যবস্থা। এই সরকারের অত্যাচার মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশজুড়ে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। তারা আজ মুক্তি চায়। তাই খুব শিগগির কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে।



ধাঁধার জবাব

রস+আলো, ১৬ এপ্রিল ২০১২


ধাঁধা-১
একটা মোরগ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ডিম পাড়ল, সেই ডিমের মালিক কোন দেশ?

সরকার: এই সরকার প্রথম থেকেই মোরগের সামাজিক অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। মোরগ-মুরগিতে ভেদাভেদ না থাকায় দেশের যেকোনো মোরগ বর্তমানে নিশ্চিন্তে ডিম পাড়তে পারছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় খুব শিগগিরই মোরগের ডিম বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হবে। এ দেশকে ‘মোরগের ডিম’-এর দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।

বিরোধী দল: দেশের জনগণ জানতে চায়, একটা বাংলাদেশি মোরগ কেন সীমান্তে গিয়ে ডিম পারবে? কারণ, এই সরকারের অত্যাচারে দেশের মোরগ নিজ দেশের মাটিতে ডিম পাড়তে ভয় পায়। অবিলম্বে দেশের মাটিতে মোরগের ডিম পাড়ার নিরাপত্তা দিতে হবে। না হলে ব্যর্থতার দায়ে এই তাঁবেদার সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে ডিম পাড়ার ব্যাপারটি আসলে খুবই স্পর্শকাতর। এই ডিমের মালিকানার ব্যাপারে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, সমুদ্রসীমা জয়ের মতো মোরগের ডিম উদ্ধারেও আমরা সফলতা অর্জন করতে পারব।

সুশীল সমাজ: একটা মোরগ, তার মাঝেও আজ দেশপ্রেমের সংকট দেখা যাচ্ছে। নিজের জাতীয়তাবোধ ভুলে গিয়ে সে আজ সীমান্তে গিয়ে ডিম পাড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় থেকে আমাদের দ্রুত উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

মোরগের বক্তব্য: মনে হচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল আমাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মোরগ ডিম পাড়ে না, ডিম পাড়ে মুরগি। মূল ঘটনা হচ্ছে, দেশের বাজারে ডিমের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আমি সীমান্ত দিয়ে ডিম পাচার করছিলাম। কিন্তু ভুলক্রমে একটা ডিম সীমান্তে পড়ে গেলে এই ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।

ধাঁধা-২
একটা গাছের ডালে ১০টা পাখি বসে আছে। একটাকে গুলি করা হলো, ডালে কয়টা পাখি থাকল?


সরকার: আমাদের সরকার পাখিদের অধিকারের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু সরকার তো আর গাছের ডালে উঠে পাখিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে না। তাই দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। অন্যায়ভাবে এই পাখি হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নিহত পাখির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিরোধী দল: এই অত্যাচারী সরকার পাখিদের মানুষ বলে গণ্য করে না। দেশের আনাচেকানাচে ডালে ডালে বিনা অপরাধে নির্বিচারে পাখিদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এই পাখি হত্যার দ্রুত বিচার চাই। দেশের সব পাখি আজ এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। শিগগিরই দেশে পাখি সম্মেলন করে সরকার পতনের আলটিমেটাম দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো। এই পাখি হত্যার ব্যাপারটি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরোধী শক্তির মদদ সুস্পষ্ট। হত্যাকারীকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে খুঁজে বের করার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত: বিনা অপরাধে পাখি হত্যার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন।

ডালে বসে থাকা পাখিদের একজন: আমি এই ঘটনার একজন প্রতক্ষ্যদর্শী। ডালে বসে আমরা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মগ্ন ছিলাম। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড জোরে গুলির আওয়াজ শুনলাম। এরপর দেখি, আমার পাশের পাখিটা মরে পড়ে আছে। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনটা পাখি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। আমিসহ পাঁচজন উড়ে গিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। তবে একটা পাখি তখনো গাছের ডালে বসা ছিল। কারণ, সে কানে শোনে না, চোখেও দেখে না। পরে শুনেছি পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে নিয়ে গেছে!



আলাদিনের দৈত্য ফিচারিং ভালোবাসা দিবস

# ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রস+আলো তে প্রকাশিত


ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবারের ভালোবাসা দিবস পালনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কিসের কী, আমার আর ঐশীর প্রেমের বিষয়টা টের পেয়ে সব পণ্ড করে দিলেন ঐশীর বাবা বজলুর রহমান। বাংলা সিনেমার ভিলেন বাবাদের মতো তিনি গৃহবন্দী করলেন তাঁর মেয়েকে। ভালোবাসা দিবস নামের উজ্জ্বল বাল্বটি আমার চোখের সামনেই ফিউজ হয়ে গেল।
বজলুর সাহেব ঐশীর বিয়ের ব্যাপারে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন। এদিকে, প্রেয়সীকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা তো দূরে থাক, উল্টো ছিঁচকে চোরের মতো জানালার শিক ধরে আমার ঐশীর সঙ্গে দেখা করতে হতো। এভাবে প্রেম করতে গিয়ে একদিন জড়িয়ে পড়লাম আরেক ঝামেলায়। জানালার এপাশ-ওপাশের ব্যাপারটা নজরে পড়ে গেল স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা মন্টুর। বলে রাখা ভালো, মন্টু ছিল ঐশীর বাবার চোখে উঁচু দরের সুপাত্র আর আমাদের প্রেমকাহিনির অন্যতম ভিলেন!
মন্টুর প্রধান কাজ ছিল, একটা বিদেশি কুকুরসহ দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ঐশীদের বাসার আশপাশে ঘুরঘুর করা। মন্টুকে আমি ভয় পেতাম না ঠিকই, কিন্তু তার কুকুরটাকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা করতাম। সেই শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে মন্টু আঙুল উঁচিয়ে আমাকে হুমকি-ধমকি দিল। শার্টের কলার ধরে শাসিয়ে দিল, ‘আর কোনো দিন এই এলাকায় দেখলে দুটো চোখই উপড়ে ফেলে দেব।’ এত দিন শুনে এসেছি, প্রেম অন্ধ, কিন্তু কেন অন্ধ তা এই প্রথমবারের মতো টের পেলাম। এমন হুমকির পর ভালোবেসে অন্ধ হওয়ার চেয়ে ঐশীকে ভুলে যাওয়াটাই আমার কাছে শ্রেয় মনে হলো।
সবকিছু হয়তো এখানেই শেষ হয়ে যেত যদি না আগমন ঘটত আলাদিনের বিখ্যাত সেই দৈত্যের। এক দুপুরে বাসার ধুলোজমা জিনিসগুলো পরিষ্কার করার সময় পুরোনো একটা কুপি থেকে ধোঁয়া উড়িয়ে বিশাল আকারের দৈত্যটা বেরিয়ে এল। শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের মতো হাত কচলে বলল, ‘Let me introduce মালিক, আমি আলাদিন সাহেবের দৈত্য। মধ্যপ্রাচ্যের প্রচণ্ড গরমে টিকতে না পেরে এ দেশে চলে এসেছি। স্থানীয় মালিক হিসেবে এখন আপনার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করা হবে। তবে জানিয়ে রাখছি, বিশ্বমন্দার কারণে অর্থবিত্ত-সংক্রান্ত কোনো প্রকার ইচ্ছাই পূরণ করা যাবে না।’
দেরি না করে আমি আমার প্রথম ইচ্ছার কথা দৈত্যকে জানালাম, ‘ঐশীর বাবা বজলুর রহমানকে ভয় দেখিয়ে প্যারালাইজড করে ফেলতে হবে।’ ব্যক্তি হিসেবে বজলুর রহমানকে আমার মোটেও পছন্দ না। নাম যেমন ভয়াবহ, মানুষ হিসেবেও তিনি ভয়াবহ। আলিফ লায়লার ভয়ংকর সব দৈত্য চরিত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর রোল পাওয়ার কথা।
সামান্য এই ইচ্ছার কথা শুনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী দৈত্য হাসতে হাসতে অদৃশ্য হয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু মিনিট দশেক পর ফেরত এল কাঁদতে কাঁদতে! লজ্জা আর অপমানে তার মুখ লাল। দুই দৈত্যের লড়াইয়ে শেষমেশ জয় হয়েছে বজলুর রহমানের। আমি তেমন একটা আশাহত হলাম না—দৈত্যটা যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে ফিরে এসেছে এটাই অনেক বড় পাওয়া!
আমি অশ্রুসিক্ত দৈত্যকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, ‘ব্যাপার না বাডি। এ দেশের ক্রিকেট দল হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পরও এত লজ্জা পায় না। তার চেয়ে তুমি মন্টুকে একটা উপযুক্ত ধোলাই দিয়ে আসো, আমাকে অপমানের শাস্তি ব্যাটা পাক।’ চোখে-মুখে চাপা আতঙ্ক নিয়ে দৈত্যটা আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। এবার অপেক্ষা একটা সুসংবাদের।
আরও একবার চোখমুখ অন্ধকার করে দৈত্যটা ফেরত এল। এই মিশনটাও ব্যর্থ! মন্টুর গায়ে হাত দিলে নাকি ‘বাংলাদেশ দৈত্যলীগ’-এর কর্মীরা পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেবে! রাজনীতিবিদদের অসীম ক্ষমতায় আমি বিস্মিত হলাম। দুটো ব্যর্থ মিশনের পর ধমকের সুরে রাগ ঝাড়লাম, ‘তাহলে তুমি পারোটা কী?’ দৈত্যটা হেসে বলল, ‘মালিক, আপনার ইন্টারনেটের স্পিড ডাবল করে দিই?’ আমি গলায় সর্বশক্তি এনে ধমক দিলাম, ‘দূর হও চোখের সামনে থেকে।’ মন খারাপ করে দৈত্যটা বোতলের ভেতর ফিরে গেল।
সে রাতেই মাথায় একটা বুদ্ধি এল। কুপি ঘষে দৈত্যকে বের করলাম আরেকবার। জানতে চাইলাম, কুকুরের শরীরে ভর করার ক্ষমতা তার আছে কি না। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে অবশেষে সর্বশেষ ইচ্ছাটার কথা জানালাম তাকে।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল ঐশীর টেলিফোনে। তুলকালাম কাণ্ড হয়ে গেছে! উত্তেজনায় সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মন্টুর বিদেশি কুকুরটা কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তায় বজলুর রহমানকে কামড়ে দিয়েছে। কুকুরের কাজ কুকুর করলেও বদরাগী বজলুর রহমান লাঠির এক বাড়িতেই মেরে ফেলেছেন কুকুরটাকে! আর ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থলেই ছোটখাটো স্ট্রোক করেছে মন্টু।
আমি ফুল নিয়ে মন্টু ও বজলুর রহমান দুজনকেই হাসপাতালে দেখতে গেলাম, আর অপেক্ষায় রইলাম একটা উষ্ণ ভালোবাসা দিবসের...।



২৭ নভেম্বর, ২০১২

পূর্ণদৈর্ঘ্য মৎস্য ছায়াছবি- 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি


বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন ক্যাম্পাসে নায়ক মাগুর আর নায়িকা ইলিশের সামনাসামনি ধাক্কা। ইলিশের হাত থেকে পড়ে গেল বই-



ইলিশ (নায়িকা): এই যে মিস্টার, দেখে চলতে পারেন না?
মাগুর (নায়ক): (ইলিশের বই তুলে দিতে দিতে) সরি ম্যাডাম, নদীর পানি এত ময়লা যে খালি চোখে কিছুই দেখতে পাই না। আচ্ছা আপনার নাম জানতে পারি?
ইলিশ: হাউ ডেয়ার ইউ? ধাক্কা দিয়ে আবার নাম জানতে চান? যত্তোসব কম পানির মাছ এসে পড়েছে বেশি পানিতে...
(মুখ ঝামটি দিয়ে চলে গেল নায়িকা ইলিশ, আর অপমানিত মুখে দাঁড়িয়ে রইল নায়ক মাগুর)


কয়েক দিন পর বিপদে পড়ল নায়িকা ইলিশ। বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় আটকা পড়ল এক জেলের জালে-



ইলিশ: ছেড়ে দে, ছেড়ে দে শয়তান। তোর ঘরে কি আর ইলিশ মাছ নেই?
জেলে: চুপ...একটা কথা বলবি না...
ইলিশ: শয়তান, তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না...
জেলে: তোর দেহটাই দরকার সুন্দরী, কেজিতে হাজার টাকা...হু হু হা হা।
ইলিশ: (সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার) বাঁচাও, বাঁচাও, কে আছো বাঁচাও...গুন্ডারা আমাকে তুলে নিয়ে গেল।
অনেক দূরে নায়ক মাগুর তখন ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করছিল। ইলিশের চিৎকারে মাইক্রোসেকেন্ডের ব্যবধানে সে হাজির হলো ঘটনাস্থলে। দাঁত দিয়ে কেটে দিল জাল, মুক্ত করল নায়িকা ইলিশকে।
ইলিশ: কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ জানাব, আপনি না থাকলে যে আজ কী হতো। (আগের ধাক্কা খাওয়ার ঘটনায় একটু ইতস্তত বোধ করে) ইয়ে...আসলে মাছ চিনতে আমার ভুল হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ভুল ভাববেন না, প্লিজ। আমি ইলিশ, আপনি?
মাগুর: আমি মাগুর।
ইলিশ: দেশি না বিদেশি...

এভাবেই পরিচয়...পরিণয়...
অতঃপর গান...
‘ইলিশ লো
তোর রুপালি ঐ আঁশ
বাজারেতে কিনতে গেলে
খাওয়া লাগে বাঁশ
ইলিশ লো’

নেচেগেয়ে চলতে থাকল ইলিশ আর মাগুরের প্রেম। সময়ের পরিক্রমায় বের হলো মাগুরের রেজাল্ট-

মাগুর: (দৌড়ে ঘরে ঢুকে চিৎকার দিয়ে) মা মা, আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছি।
মা মাগুর: আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকত...
মাগুর: বাবার কী হয়েছিল মা?
মা মাগুর: তুই যখন পোনা ছিলি, তখন মানুষেরা তোর বাবাকে ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলেছে।
মাগুর: (চোখ মুছতে মুছতে) মাছ হয়ে ভালো রেজাল্ট করে লাভ নেই মা, শেষমেশ মানুষের পেটে যেতে হয়...

এদিকে ইলিশ তার বাবার সঙ্গে মাগুরের পরিচয় করিয়ে দিতে নিয়ে এল ঘরে। কিন্তু মেয়ের প্রেমিকের প্রজাতি দেখে মনঃক্ষুণ্ন হলেন ইলিশের বাবা।

ইলিশের বাবা: সামান্য দেশি মাগুর হয়ে কোন সাহসে তুমি আমার মেয়ের দিকে পাখনা বাড়িয়েছ?
মাগুর: ভালোবাসা কখনো মাছের প্রজাতি দেখে না। ইলিশকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।
ইলিশের বাবা: তুমি জানো, আমার মেয়ের লেজের দাম দিয়ে তোমার মতো কয়েক ডজন মাগুরকে বাজার থেকে কিনে নেওয়া যাবে।
মাগুর: ইলিশ সাহেব, টাকা দিয়ে মাছ কেনা যায়, কিন্তু মাছের ভালোবাসা কেনা যায় না। আমরা গরিব মাছ হতে পারি, কিন্তু ছোট মাছ নই।
ইলিশের বাবা: আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে তোমাকে ইলিশের মতো চলাফেরা করতে হবে। শরীরে ইলিশের ঘ্রাণ থাকতে হবে। নইলে এ বাড়ির দরজা তোমার জন্য বন্ধ।
নায়ক মাগুরের তৎক্ষণাৎ প্রস্থান। বাবা ইলিশ ঘরে বন্দী করলেন তার মেয়েকে।





ইলিশের বাবা: আজ থেকে তোমার বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ। আমার বন্ধুর ছেলে রুইয়ের সঙ্গে শিগগিরই তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ইলিশ: না বাবা, না, মাগুরকে আমি ভালোবাসি বাবা। মাগুরকে ছাড়া আমি বাঁচব না। ওই ফরমালিন দেওয়া পচা রুইকে আমি মেনে নিতে পারব না।
ইলিশের বাবা: (লেজ দিয়ে মেয়ের গালে চটাশ করে চড় দিয়ে) আমার মুখের ওপর আর একটা কথা না। তোমার এত অধঃপতন হবে জানলে জাটকা থাকতেই গলা টিপে তোমাকে মেরে ফেলতাম।



নায়ক মাগুর এত সহজে হাল ছাড়ল না। অনেক পরিশ্রম করে বেশ কিছু টাকা জোগাড় করে ফেলল। এরপর সেই টাকা দিয়ে বাজার থেকে ইলিশের গন্ধওয়ালা এক্স ব্র্যান্ডের বডি স্প্রে কিনে আনল। শরীরে স্প্রে করা মাত্র মাগুরের শরীর থেকে ভুরভুর করে ইলিশের গন্ধ বের হলো। শুধু তা-ই না, আশপাশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মেয়ে মাছ পাগলের মতো তার দিকে ছুটে আসা শুরু করল!
মাগুরের এই বুদ্ধি কাজে দিল। ইলিশের বাবা মাগুরের সঙ্গে ইলিশের বিয়েতে রাজি হয়ে গেলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হলো গুন্ডা রুই মাছ। সে তার দলবল নিয়ে অপহরণ করে নিয়ে এল নায়িকা ইলিশ আর তার বাবাকে। দড়ি দিয়ে বেঁধে দিল দুজনের শরীর।

গুন্ডাদের আস্তানায়-

রুই: সোজা বড়শিতে মাছ না উঠলে তাতে কেঁচো দিতে হয়, ইলিশ সাহেব। আজ থেকে ইলিশ আমার, ইলিশের সব সম্পত্তিও আমার, হু হু হু হা হা হা...
ইলিশের বাবা: তোর জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলব বদমাশ। ইলিশ দেখেছিস, ইলিশের কাঁটা দেখিসনি...
রুই: হু হু হু হা হা হা, সে সুযোগ তুই পাবি না। তোকে খুন করে তোর লাশ দিয়ে ইলিশ পোলাও রান্না করা হবে। হু হু হু হা হা হা। তোর মেয়ে ইলিশ এখন আমার সামনে নাচবে... এই কে আছিস, ইলিশের বাঁধন খুলে দে...

খুলে দেওয়া হলো ইলিশের বাঁধন। ইলিশ আবার আধুনিক মেয়ে, মুক্ত হয়েই সে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল ‘gundara amake tule niyese, monta onek kharap’। লোকেশনে লিখে দিল ‘rui er astana’। তারপর গান গেয়ে গেয়ে নাচা শুরু করল। এদিকে স্ট্যাটাস দেখামাত্র মাগুর ছুটে এল রুইয়ের আস্তানায়। দেয়াল ভেঙে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল গুন্ডা রুইয়ের ওপর।

মাগুর: শয়তান, আজ আমি তোকে মেরেই ফেলব।
গুন্ডারা গুলি করা শুরু করল ঢিশা... ঢিশা... ঢিশা... (৭০ রাউন্ড গুলি, নিহত ০)
নায়ক মাগুরও গুলি করা শুরু করল ঢিশা... ঢিশা (২ রাউন্ড গুলি, নিহত ৭০)।
সব গুন্ডাকে মারার পর বাকি রইল শুধু রুই। অন্য গুন্ডাদের হাতের নিশানা ভালো না হলেও রুইয়ের হাতের নিশানা ভালো। নায়কের দিকে তাক করে গুলি করল সে। ঢিশুয়া...কিন্তু, ইলিশের বাবা দৌড়ে এসে বুক পেতে দিলেন মাগুরের সামনে। গুলি এসে লাগল তার পেটিতে। এমন সময় পুলিশ মাছের আগমন। ‘আইন নিজের পাখনাতে তুলে নেবেন না’ বলে গ্রেপ্তার করা হলো গুন্ডা রুইকে।




এদিকে—
বাবা ইলিশ: (রক্তমাখা পেটিতে ধরে) বাবা মাগুর, আমার মেয়েকে তুমি দেখে রেখো, বাবা। ওকে তোমার হাতে দিয়ে গেলাম। আ আ আহ্...
ইলিশ: নাআআ আআ বাআআবাআ নাআ, তুমি এভাবেএএ চলে যেতে পারো নাআআ নাআআ।
অতঃপর মাগুর আর ইলিশ সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল, আর কিছুদিন পর মাগুর+ইলিশ থেকে ‘মালিশ’ নামক নতুন মৎস্য প্রজাতি পেল বাংলাদেশ।