দিনলিপি


#
সম্ভবত তখন ক্লাস ফোরে পড়ি । বৈশাখের এক বিকালে হটাৎ করে আকাশ ঘন কাল হয়ে গেল । ঝড় আসছে, কালবৈশাখী । এদিকে, বাসায় শুধু আমি আর আমার বড় বোন । দুইজনি ভীতুর ডিম । ঝড়-বজ্রপাতে দুজনেরি তীব্র ভয় ।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যার দিকে ঝড় শুরু হয়ে গেল । প্রচন্ড বাতাস, মনে হচ্ছে ঘরবাড়ি সব ভেঙ্গে পড়বে । সাথে ভয়ংকর সব বজ্রপাত । ভয়ে আমরা দুইজন পাশাপাশি বসে থরথর করে কাঁপছি । মিনিটে মিনিটে ঝড়ের তান্ডব বাড়ছে । প্রচন্ড ভয় পেয়ে বুবু বললেন ‘নাসিফ আযান দে , আযান দিলে বিপদ দূর হয়’ । আমি কাঁপতে কাঁপতে বললাম ‘পারিনা’ । আমার তখন ধারনা জন্মাল আমরা অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে মারা যাচ্ছি । ভয়ে চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটী করতে ইচ্ছা করছে । কিন্তু ‘বড়’ হয়ে গেছি বলে পারছি না । অনেক পরে ঝড় থামল । আমাদের সে কি আনন্দ । যদিও মৃত্যুর মত কিছু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমি ছিল তারপরেও আমরা বেঁচে আছি এই আনন্দেই বেঁচে থাকার স্বাদ আরও বেড়ে গেল । বুঝতে পারলাম পৃথিবীর সবচাইতে বড় ভয় মৃত্যুর ভয় । ভয়ংকর এই দিনের কথা আমার এখনো মনে পড়ে ।

যুদ্ধের সময় এদেশের অগনিত মানুষ এর চাইতে ‘লক্ষ গুন’ ভয়-আতংক নিয়ে মৃত্যুকে চোখের সামনে রেখে দিন কাটিয়েছে । না জানি কতটা ভয়ংকর ছিল সেই দিনগুলি । একেকটা দিনে বেঁচে থাকাটাও ছিল সৌভাগ্যের । এই ভয় থেকে মুক্তির আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ পৃথিবীতে আর কিছুই হতে পারেনা ।

আমার খুব ইচ্ছা , ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর দেখার । কয়েক কোটি মানুষ আনন্দে দিশেহারা হয়ে আছে । এমন আনন্দ এমন আবেগের অনুভুতি আমার এই কম্পিউটারের সামনে বসে অনুভব করা সম্ভব না ।
 ১৬ ডিসেম্বর ২০১২