২৯ নভেম্বর, ২০১২

চা বানানোর ভিন্ন ভিন্ন রেসিপি


ফুটন্ত পানিতে চায়ের পাতা দিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে মানুষ গরম গরম চা পরিবেশন করে। বেশির ভাগ লোকের কাছে চা বানানোর কৌশল প্রায় এ রকম হলেও বিভিন্ন সময় শ্রেণীভেদে চা বানানোর কৌশলে ভিন্নতা দেখা যায়। সেসব রেসিপি নিয়ে এসেছেন বিশিষ্ট পাচক নাসিফ চৌধুরী


অমনোযোগী গৃহিণী
প্রথমে কেটলিতে পানি গরম করতে দিন। এবার রান্নাঘর থেকে বের হয়ে টিভিতে নাটক দেখতে বসুন। হঠাৎ যখন মনে পড়বে চা বসিয়ে এসেছেন, তখন রান্নাঘরের দিকে দৌড় দিন। এবার কেটলির দিকে তাকিয়ে দেখুন—পানি পরিমাণমতো আছে, নাকি কমে গেছে। যদি কমে যায়, তাহলে আরেকটু পানি ঢালুন। এবার চা-পাতা দিন। এরপর আবার টেলিভিশন দেখতে বসুন। কিছু সময় পর আবার দৌড়ে গিয়ে দেখুন চায়ের রঙের কী অবস্থা? যদি ভালো মনে হয়, তাহলে ছাঁকনি দিয়ে ছাঁকুন। পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে গরম গরম চা পরিবেশন করুন।

প্রথম প্রথম চা বানাচ্ছেন এমন কেউ
চা বানাতে হলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে কেটলি রান্নাঘরের কোথায় থাকে। এ ব্যাপারে আপনার বউয়ের সাহায্য নিতে পারেন। আর ঝগড়ার কারণে যদি বউয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ থাকে, তাহলে নিজেই খুঁজে নিন। খুঁজে পেলে তাতে পানি গরম করতে দিন। এবার চা-পাতা কোথায় থাকে, সেটা খুঁজে বের করুন। খুঁজতে খুঁজতে যদি মেজাজ বেশি খারাপ হয়ে যায়, তাহলে ফ্যানের নিচে বসে মাথা একটু ঠান্ডা করে নিন। চা-পাতা খুঁজে পেলে পানিতে ঢালুন। এরপর পানির দিকে তাকিয়ে দেখুন পানির রং কেমন হলো। মনমতো রং হওয়ামাত্র ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে ঢালুন। তাতে পরিমাণমতো দুধ-চিনি মিশিয়ে নিন। এবার চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ‘ওয়াক থু’ বলে ফেলে দিন। রাগ করে প্রথম প্রথম চা বানালে এমনই হয়!

পরিবারের আদুরে কন্যা
প্রথমে আম্মুকে বলে নিন, ‘মম, আজকে কিন্তু আমি চা বানাব!’ মায়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসামাত্র আম্মুকে বলুন কেটলিটা এনে দিতে। এবার কেটলি চুলায় দিয়ে আম্মুর কাছ থেকে জেনে নিন কতটুকু পানি দিতে হবে, পানি গরম হয়ে গেলে আবার আম্মুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, চা-পাতা কতটুকু লাগবে। এই ফাঁকে একবার বলে নিন, ‘উফ, চা বানানো এত কষ্ট, আমার মাথাব্যথা করছে!’ পানি গরম হলে মাকে বলে ছাঁকনি খুঁজে নিন। আম্মুকে বলুন কেটলি থেকে গরম পানি কাপে ঢেলে দিতে। কারণ, ঢালার সময় গরম পানি হাতে লাগলে চিৎকারের চোটে প্রতিবেশীদের সমস্যা হতে পারে। পানি ঢালা শেষ হলে আম্মুকে বলুন কাপে দুধ-চিনি মিশিয়ে দিতে। এরপর সেই চা অন্যকে দিন এবং বলুন, ‘এই চা আমি বানিয়েছি’!

ব্যাচেলর
প্রথমে খুঁজে দেখুন ঘরে কোনো কেটলি আছে কি না। যদি থাকে, তাহলে দেখুন পানি আছে কি না। যদি পানি থাকে, তাহলে কেটলিতে পানি ঢালুন। এর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, বকেয়া বিলের অভিযোগে গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে কি না। যদি লাইন ঠিকঠাক থাকে, তাহলে পানি গরম করতে থাকুন। চা-পাতা দিতে গিয়ে দেখবেন ঘরে চা-পাতা নেই। তখন দোকানে গিয়ে চা-পাতা নিয়ে আসুন। পানিতে চা-পাতা ঢালুন। যখন ছাঁকনি খুঁজেই পাবেন না, তখন ছাঁকনি ছাড়াই চা কাপে ঢালুন। এবার দুধ-চিনি মেশানোর পালা। কী আশ্চর্য! একবারও মনে পড়েনি ঘরে দুধ-চিনি নেই! আবার দোকানে যান, দুধ-চিনি নিয়ে আসুন। বাসায় ফিরে এই ব্যাচেলর জীবনের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে চায়ে দুধ-চিনি মিশিয়ে নিন। চামচ খুঁজে পাচ্ছেন না? এক কাজ করুন, আঙুল দিয়ে নাড়ুন। এই চা তো আপনিই খাবেন, ঠিক না?

কাজের বুয়া
চা বানানোর কথা শোনামাত্র চোখেমুখে যথাসম্ভব বিরক্তির ছাপ নিয়ে আসুন। এবার কেটলিতে ইচ্ছামতো পানি দিয়ে তাতে যত খুশি চা-পাতা দিয়ে দিন। চায়ের রং গাঢ় কিংবা হালকা যা-ই হোক, ঠিক দেড় মিনিট পর তা কাপে ঢালুন। এবার চামচ দিয়ে যতটুকু দুধ-চিনি ওঠানো যায়, ততটুক কাপে দিয়ে একটা ঘোঁটা দিন। এবার যে চা পান করবে, তার সামনে ধপ করে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখুন।

বাড়ির কর্তা
বাসার কাউকে ডেকে বলুন এক কাপ চা দিতে। এর পাঁচ মিনিট পর গরম গরম চা পরিবেশন করুন।

বাড়ির কর্ত্রী
স্বামী অফিস থেকে ফিরে এলে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলুন। হাত যেন ভালোভাবে পরিষ্কার হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিন। চা বানিয়ে আনলে চোখ বন্ধ করে এক চুমুক মুখে নিন। পুরোটুকু না গিলেই কাপের চা স্বামীকে এক চুমুকে পান করার আদেশ দিন।